হোম > সারা দেশ > ঢাকা

নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ বিল্ডিং ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশের প্রায় ৮০ লাখ নির্মাণ শ্রমিকের কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা, নিয়োগপত্র, জীবনযাপনের উপযোগী মজুরি, দুর্ঘটনায় আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ ১২ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বিল্ডিং ওয়ার্কার্স ফেডারেশন।

আজ রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন ফেডারেশনের সভাপতি মো. আব্দুল মতিন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৮০ লাখ নির্মাণ শ্রমিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাঁদের কর্মক্ষেত্র ও জীবনযাপনের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। অধিকাংশ শ্রমিক সেফটি হেলমেট, সেফটি বেল্ট, বুট ও গ্লাভসের মতো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ উচ্চতায় কাজ করতে বাধ্য হন। এতে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

সংগঠনটির দাবি, শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ নির্মাণ শ্রমিকই এ অধিকার থেকে বঞ্চিত। ফলে তাঁরা মজুরি বঞ্চনা ও মালিকপক্ষের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হলে তাঁদের সুচিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণেরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রম আইন অনুযায়ী নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বর্তমান দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও অবসরকালীন ভাতার জন্য আলাদা কল্যাণ তহবিল, জেলাভিত্তিক আবাসন ও সরকারি হাসপাতাল স্থাপন এবং সব নির্মাণ শ্রমিককে ডেটাবেইসের আওতায় আনার দাবি করা হয়।

এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে নিহত-আহত শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন, নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ও শ্রম আইন বাস্তবায়নে মনিটরিং ব্যবস্থা, নির্মাণ ব্যয়ের ১ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে জমা এবং শ্রমিকদের গ্রুপ বিমার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

দাবি বাস্তবায়নে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছে ফেডারেশন। এরপর পর্যায়ক্রমে স্মারকলিপি প্রদান ও সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের কথা জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি আমিরুল হক আমিন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আনোয়ার হোসাইন।