দেশে চলমান বিদ্যুৎ-সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে ঢাকার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) দৈনিক পাঁচ ঘণ্টা করে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)।
রোববার (২৩ আগস্ট) বুয়েট কর্তৃপক্ষের এক দাপ্তরিক চিঠিতে লোডশেডিংয়ের এই নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। সূচি অনুযায়ী বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রতিদিন নিম্নোক্ত পাঁচ ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে—
সকাল ৬টা থেকে ৭টা
সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা
বেলা ২টা থেকে ৩টা
রাত ১২টা থেকে ১টা
রাত ৩টা থেকে ৪টা
কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানিয়েছে, বিদ্যুৎ না থাকার সময়গুলোতে দিনের বেলায় বুয়েটের নিজস্ব জেনারেটর চালু করা সম্ভব হবে না। কারণ, দিনের বেলা জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ অত্যধিক কম থাকায় বিকল্প জেনারেটর চালিয়ে পুরো ক্যাম্পাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরবরাহের ঘাটতিই মূলত এই পরিস্থিতির কারণ। আজ সন্ধ্যা ৭টায় সারা দেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। তবে তার বিপরীতে সরবরাহ সম্ভব হয়েছিল ১৫ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট, অর্থাৎ, এক মুহূর্তেই বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট।
এলএনজি ও গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ-স্বল্পতার কারণে ঢাকা শহরের বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় দফায় দফায় পালা করে কয়েক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।