রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধে ছিনতাইকারীরা চাপাতির কোপে আহত করে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হৃদয় ওরফে ‘মালখোর হৃদয়ের’ বিরুদ্ধেই ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের অভিযোগে চারটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, হৃদয় নিজেও মোহাম্মদপুর ও হাজারীবাগ এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারি।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে মোহাম্মদপুরের সাদেক খান রোডে এ ঘটনা ঘটে। আহত হৃদয়কে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হৃদয়ের বন্ধু মোহাম্মদ বিপ্লব জানান, হৃদয় মোটরসাইকেলে করে মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে মালামাল আনতে যাচ্ছিলেন। সাদেক খান রোড এলাকায় পৌঁছালে অন্তত পাঁচজন তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এরপর হামলাকারীরা চাপাতি দিয়ে তাঁর পিঠ ও কোমরে কোপ দেয়। একপর্যায়ে তাঁর মোটরসাইকেল ও ২০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। খবর পেয়ে হৃদয়কে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আহত ওই ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনাটিকে ছিনতাই হিসেবে জানা গেলেও এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন।
মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশের দাবি, আহত ব্যক্তির নাম আরিয়ান মোহাম্মদ হৃদয়। অপরাধজগতে তিনি ‘মালখোর হৃদয়’ নামে পরিচিত। বাবার নাম সবুজ মিয়া, মা হাসিনা বেগম। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর হাজারীবাগ থানার শংকর চেয়ারম্যান বাড়ি গলি এলাকায় থাকেন।
পুলিশের ভাষ্য, হৃদয় নিজেই ছিনতাই ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের মে মাসে ছিনতাইয়ের অভিযোগে করা একটি মামলায় তিনি চার্জশিটভুক্ত আসামি। একই বছরের আগস্টে করা ডাকাতির একটি মামলাতেও তিনি চার্জশিটভুক্ত আসামি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি মাদক ও ছিনতাইয়ে মামলা হয়েছে। এ ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে হাজারিবাগ থানাতেও মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে পূর্বশত্রুতার জেরে হৃদয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। মোহাম্মদপুর ও হাজারীবাগ এলাকার কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত আলআমিন ওরফে ‘বারো কামলা আলআমিন’ তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় হৃদয়ের মোটরসাইকেল ও টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। ফলে ঘটনাটি কেবল ছিনতাই, নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘটিত হামলার অংশ হিসেবে মোটরসাইকেল ও টাকা নেওয়া হয়েছে—তা তদন্তের বিষয়।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা বলেন, ‘মালখোর হৃদয়’ হাজারীবাগ ও মোহাম্মদপুর এলাকার একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে অনেক দিন ধরেই পুলিশ খুঁজছিল।
পুলিশের দাবি, হৃদয় মাদক কারবারি ‘চাপা আরিফের’ ছত্রচ্ছায়ায় হাজারীবাগ ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিনতাই ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তবে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে এ বিষয়ে থানায় হৃদয় কোনো অভিযোগ করেননি বলেও জানিয়েছে তারা।