হোম > সারা দেশ > ঢাকা

আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ভিত্তিহীন: আনসার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কার্যালয়ে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে চোর সন্দেহে এক যুবককে আটকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই যুবককে আটক করা হয়। পরে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবকের বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।

আনসার বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিবের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তেজগাঁওয়ের বিটিসিএল কার্যালয়ে যুবক হত্যাকাণ্ডে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য জড়িত থাকার খবর ভিত্তিহীন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকালে তেজগাঁও টিঅ্যান্ডটি তারভান্ডার এলাকায় কয়েকজন যুবক অনুপ্রবেশ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত অঙ্গীভূত আনসার সদস্য শাহজামাল এক যুবককে চুরি করতে দেখে ধাওয়া করেন। এ সময় পুরোনো টিনের চাল ভেঙে নিচে পড়ে যান ওই যুবক। পরে বিটিসিএলের কর্মী মো. শওকত হোসেন তাঁকে আটক করেন। আনসার সদস্যরা তাঁকে আটক করতে সহযোগিতা করেন।

আনসারের ভাষ্য, প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) নুরুল ইসলাম আটক যুবককে বিটিসিএলের পিও সুলতান মাহমুদ ও ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর আনসার সদস্যরা নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে ফিরে যান। তাঁকে ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন বা মারধর করা হয়েছে এবং এর ফলে মৃত্যু হয়েছে—এমন তথ্যেরও কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।

বিটিসিএলের অফিস সহকারী মো. সাইফুল বলেন, ‘সকালে তিন যুবক দেয়াল টপকে চুরির উদ্দেশ্যে কার্যালয়ে ঢোকেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁদের ধাওয়া করলে দুজন পালিয়ে যান। একজনকে আটক করে আনসার সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’ তাঁর ভাষ্য, আনসার সদস্যদের মারধরে ওই যুবক গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।

জানা যায়, বিটিসিএল কার্যালয়ের দুই পোস্টে দুজন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন, আরেকজন লাঠি নিয়ে ঘোরাফেরা করেন। সকালে দুই দিক থেকে ধাওয়া করে ওই যুবককে আটক করার পর বেঁধে মারধর করা হয়। ঘটনার সময় প্লাটুন কমান্ডার নুরুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

নুরুল ইসলাম বলেন, শুধু আনসার সদস্যরা নন, বিটিসিএলের লোকজনও ওই যুবককে মারধর করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, চোর আটক করার পর প্রায়ই বিটিসিএল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তাঁরা থানায় খবর দেন না।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, অচেতন অবস্থায় ওই যুবককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেছেন।