রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে জোরদার অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সাইবার মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদর দপ্তরের উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। তিনি বলেছেন, খুব শিগগির মোহাম্মদপুর থেকে সমস্ত অপরাধ নির্মূল করতে সক্ষম হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আজ রাজধানীর এসআরবি (পূর্ব নাম র্যাব) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এসআরবি কর্মকর্তা এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, মোহাম্মদপুরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। রাতারাতি পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে যেখানে অপরাধের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে, সেখানে জোরদার প্রচেষ্টা চলছে।
ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, মোহাম্মদপুরে এসআর ব্যাটালিয়নের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি, অভিযান পরিচালনার জন্য কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানো, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার ও সাইবার মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, তার সবগুলোই নেওয়া হচ্ছে।
এসআরবি কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রতিদিনই বিভিন্ন আকারের ছোট-বড় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে এসআরবি-২-এর বিভিন্ন সাফল্যও পাওয়া যাচ্ছে, যা গণমাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘সবাইকে আরও কিছুটা সময় দিতে হবে। পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। খুব শিগগির মোহাম্মদপুর থেকে সমস্ত অপরাধ নির্মূল করতে সক্ষম হওয়ার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।’
এর আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চলমান কার্যক্রম প্রসঙ্গে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ ক্যাম্পেইন চলছে। বাংলাদেশ পুলিশ০ ও সেনাবাহিনীর অভিযান এবং এসআরবির পক্ষ থেকে এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
অস্ত্র উদ্ধারের কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করতে মানুষের কাছ থেকে তথ্য চাওয়া হচ্ছে জানিয়ে এসআরবির এ কর্মকর্তা বলেন, খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের অবস্থান প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হলেও তথ্যের অভাবে অনেক অস্ত্র উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়াকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কোনো ব্যক্তির কাছে লুণ্ঠিত অস্ত্র থাকলেও তাঁর হয়তো কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য নেই। ঘটনার সময় বা পরিস্থিতির কারণে কেউ অস্ত্র নিয়ে চলে গিয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু পরে কী করবেন, তা বুঝতে না পেরে কিংবা আইনি জটিলতার আশঙ্কায় কাউকে বিষয়টি জানাতে পারছেন না।
এ ধরনের পরিস্থিতির সমাধানে অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, অস্ত্রগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে সেখানকার তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো যেতে পারে। কোথায় কতটি পিস্তল, রাইফেল, ম্যাগাজিন বা গুলি রয়েছে—এ ধরনের তথ্যই যথেষ্ট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করবে।
এসআরবি জানায়, যাঁরা এভাবে অস্ত্রের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন, তাঁদের সরকারিভাবে পুরস্কৃত করা হবে এবং তাঁদের কোনো আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে না বলে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।