হোম > সারা দেশ > ঢাকা

ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ কোটার চেয়েও বড় ‘ক্যানসার’: ছাত্র অধিকার পরিষদ সভাপতি

ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাবির মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

এনটিআরসিএর পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু হলে তা কোটার চেয়েও বড় ‘ক্যানসারে’ রূপ নেবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাজমুল বলেন, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলে আবারও স্বজনপ্রীতি, অর্থের বিনিময়ে চাকরি ও মামা-চাচার সুপারিশের সংস্কৃতি ফিরে আসতে পারে। কোনোভাবেই এই ব্যবস্থা ছাত্রসমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভার প্রসঙ্গ তুলে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এনটিআরসিএ শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজে থাকবে এবং শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে না—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই সভার সিদ্ধান্ত কীভাবে হলো, কারা এর সঙ্গে জড়িত—তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের দাবি জানান। তাঁর দাবি, সরকারি চাকরিতে চার লাখের বেশি পদ খালি রয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হলে শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরি ও বেকারত্ব কমানো সম্ভব হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ছাত্র অধিকার পরিষদের এই নেতা বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কোনো সংগঠন পেশিশক্তি প্রদর্শন বা গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করলে ছাত্র অধিকার পরিষদ সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—এনটিআরসিএর পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করা, সরকারি দপ্তর ও চাকরির শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা এবং ক্যাম্পাসের অস্থিরতা ও বিদ্যুৎ-গ্যাস ও জ্বালানিসংকট দ্রুত সমাধান করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা।