রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনীতে জিরানী খাল থেকে জজ মিয়া (৪৪) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মো. আব্দুল্লাহ (৩৩) জানিয়েছেন, এক সহযোগীর স্ত্রীর সঙ্গে জজ মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর জেরেই তাঁকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে এটিকেই হত্যার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
আজ শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ।
পুলিশ জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর খিলগাঁওয়ের বাসা থেকে বের হন জজ মিয়া। পরদিন রাত ১২টা ২৮ মিনিটে তিনি বাড্ডার মেরুল বাড্ডার মতি বাবুর বাউন্ডারির ভেতরে থাকা মিন্টুর গ্যারেজে যান। সেখানে আগে থেকেই আব্দুল্লাহসহ আরও কয়েকজন অবস্থান করছিলেন।
পুলিশের দাবি, গ্যারেজে পূর্বপরিকল্পিতভাবে জজ মিয়াকে ধারালো চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মরদেহটি খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনী ব্রিজের নিচে জিরানী খালে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল্লাহ দাবি করেছেন, নিহত জজ মিয়া তাঁর এক সহযোগীর স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এ কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে আব্দুল্লাহর এই বক্তব্যের ভিত্তিতে হত্যার কারণ চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করছে না পুলিশ। প্রেমের সম্পর্কের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, সাক্ষ্য-প্রমাণ, নিহতের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই ঘটনায় জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাঁদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এ ঘটনায় নিহত জজ মিয়ার স্ত্রী রোজিনা বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
পুলিশ জানায়, নিহত জজ মিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।