ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ২টি পৃথক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার পর জগন্নাথ হলের মূল ফটকের বাইরের রাস্তায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের রাস্তায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীস পাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘তিনি নিজেও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। হলের দারোয়ানরা তাকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণটি হলের মূল গেটের বাইরের সড়কে হয়েছে। ঘটনার পর হলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়া বহিরাগতদের হলে প্রবেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান প্রাধ্যক্ষ।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি দাবি করেন, দুজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে এসে ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত চলে যান। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের সড়কেও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান।
ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম রয়েছে। ককটেল, হাতবোমা নাকি অন্য কোনো বিস্ফোরক—বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হচ্ছে।’
কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রক্টর বলেন, ‘যারা সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ চায় না, এমন কোনো পক্ষ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। তবে এখনই কোনো সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে দায়ী করা যাচ্ছে না।’
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১২ টার দিকে দিকে টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। মিছিল থেকে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
মিছিলকারীরা ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, দখলদারি ও পেশিশক্তির রাজনীতি বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরুদ্দিন শাওনসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।