ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের টানা আন্দোলনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও মিরপুর-১০-এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও নাশকতা ঠেকাতে সেখানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১০-এ যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, সড়কে যানবাহন চলাচল করছে এবং গণপরিবহনগুলো নির্ধারিত সময়ে চলাচল করছে। সকাল থেকে এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে মিরপুর-১০ মেট্রোস্টেশন এলাকায় প্রায় দেড় শতাধিক পুলিশ সদস্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পুলিশের পাশাপাশি টহলে রয়েছে র্যাব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মিরপুর-১০-এ সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, কেউ নাশকতামূলক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে পুলিশ কঠোর অবস্থান নেবে।
এদিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের আশপাশ এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ফের সংঘর্ষ বাধে তাঁদের। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে বিভিন্ন গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। এ সময় আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ শ্রমিক সড়ক অবরোধ করে রাখেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে শ্রমিকেরা আশপাশের বিভিন্ন গলিতে অবস্থান করছেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ থেমে থেমে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করছে। এ সময় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কোথাও কোথাও শ্রমিকদের পুলিশের ওপর হামলা ও মারধর করতেও দেখা গেছে।
এ অবস্থায় আন্দোলনকারীদের সড়কে অবস্থান থেকে বিরত রাখতে মিরপুর-১১ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে মাইকিং ও টহল দিচ্ছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: