হোম > সারা দেশ > ঢাকা

রাজধানীর চানখাঁরপুলের মেসে জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ‎

জবি ও ঢামেক প্রতিনিধি

জবি শিক্ষার্থী অনিক চন্দ্র পাল। ছবি: সংগৃহীত

‎রাজধানীর বংশাল থানাধীন চানখাঁরপুল এলাকার একটি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অনিক চন্দ্র পাল (২১) নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ‎মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বি কে গাঙ্গুলী লেনের ছাত্রদের ওই মেস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ধারণা, শারীরিক অসুস্থতার অনিক আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে অনিকের সহপাঠীরা জানান, প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

জানা গেছে, অনিক চন্দ্র পাল গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার শিবপুর উপজেলায়। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

অনিক চন্দ্র পালের মেস সদস্য ও জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকেই অনিকের তেমন সাড়াশব্দ বা খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে অনিকের এক ব্যাচমেট তাকে ফোন না পেয়ে মেসে তার রুমে গিয়ে দেখতে বলেন। পরে তারা দুজন মিলে রুমে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ দরজায় কড়া নাড়লেও কোনো সাড়া পাননি।

‎জয় ভূঁইয়া বলেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। পরে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে অনিককে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখা যায়। এরপর দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎সহপাঠী ও মেস সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, দু’দিন আগে অনিকের সঙ্গে তার প্রেমিকার বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর থেকে অনিকের মোবাইল ফোন বন্ধ ও ভাঙা পাওয়া যায়। এরপর থেকেই তিনি মেসে একা চুপচাপ থাকতে শুরু করেন।

‎ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল। তিনি বলেন, ‘স্টুডেন্টরা আমাকে ঘটনা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই। কিন্তু ততক্ষণে আমাদের স্টুডেন্ট আর বেঁচে ছিল না।

‎সহকারী প্রক্টর আরও বলেন, ‘আমি ওর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ওর বাবার সঙ্গেও কথা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আসার পর মেডিকেল ও থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’ স্বজনদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এর পর তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রুবেল হোসেন জানান, মেসে অনিকের কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। যেখানে তার শারীরিক অসুস্থতার কথা লেখা আছে। তিনি চোখে ভালো দেখতেন না এবং জানতেন যে, তিনি কিছুদিন পর অন্ধ হয়ে যাবেন। এসব বিষয় লেখা আছে ওই চিরকুটে। এ কারণে তিনি দুশ্চিন্তায় থাকতেন। তবে পুরো ঘটনাটি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।