রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে দ্বিতীয় দিনের মতো উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর শুরু হওয়া এ অভিযানে কিছু জায়গায় বাধা এলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আগের দিন উচ্ছেদ করা বেশির ভাগ স্থানেও নতুন করে দখল বসেনি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান বলেন, অনেকেই সরকারি জায়গা, রাস্তা ও ফুটপাত নিজেদের সম্পত্তি মনে করে ব্যবহার করছেন। তবে অভিযানে সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করছেন। রাজধানীবাসীর সহযোগিতা নিয়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে শাহবাগ এলাকায় রমনা ট্রাফিক বিভাগ রমনা ক্রসিং থেকে গোলাপশাহ মাজার ক্রসিং পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে রাখা অবৈধ দোকান ও স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার রমনা নাসরিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ফুটপাত দখল করে রাখা মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন গাড়ির বিরুদ্ধে ৫৬টি ভিডিও মামলা এবং ১২টি তাৎক্ষণিক মামলা করা হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি প্রায় চার পিকআপ সমপরিমাণ অবৈধ মালামাল জব্দ করে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়। জনসচেতনতা বাড়াতে প্রায় ১০০টি গণবিজ্ঞপ্তি বিতরণ করা হয়।
রাজধানীর ফুলবাড়িয়া ক্রসিং, বঙ্গবাজার, বংশাল মোড় ও নবাবপুর রোড এলাকায়ও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। সেখানে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার এবং দুজনকে ছয় হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এক ট্রাক মালামাল জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দোকানের বাইরে রাস্তা ও ফুটপাতে মালামাল রেখে জনচলাচলে বাধা সৃষ্টি করছিলেন বলে জানায় পুলিশ।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চানমারি থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুর রহমান ও ট্রাফিক মতিঝিল বিভাগের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন দোকান থেকে আনুমানিক এক লাখ টাকা জরিমানা আদায়, ২০টি মামলা এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের হাউজবিল্ডিং মহাসড়ক সংলগ্ন পূর্ব রোড এলাকায়ও অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। ভবিষ্যতে দখলদারিত্ব চালালে জরিমানা, কারাদণ্ড, মালামাল জব্দ ও প্রতিষ্ঠান সিলগালা করার হুঁশিয়ারি দেন।
মিরপুরের ১০, ১২ নম্বর, কালশী ও আশপাশ এলাকায়ও দোকানপাট, হোটেল ও ওয়ার্কশপের সম্প্রসারণের মাধ্যমে দখল করা ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় ছয়টি মামলা দিয়ে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং ১০ জনের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিনিয়র সিভিল জজ) মো. আল-ফয়সাল বলেন, ফুটপাতে মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এমন কোনো কাজ না করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনেকে তা মানছেন না। তাই কাউকে সতর্ক করা হচ্ছে, কাউকে জরিমানা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের দখল ঠেকাতে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।