হোম > সারা দেশ > ঢাকা

গ্রেপ্তার সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ পুলিশের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

সাবেক সেনা কর্মকর্তা কাজী গুলশান আরা ও দেবাশীষ। ছবি: সংগৃহীত

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী গুলশান আরা ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গতকাল রোববার রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে আজ সোমবার বিকেলের দিকে দুজনকে আদালতে হাজির করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শেখ বশির আহমেদ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালতে শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ডিবির মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনাল টিম যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় রাত আড়াইটার দিকে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষের বনানীর বাসা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পল্লবী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গ্রেপ্তার দুজন তাঁদের সহযোগীদের নিয়ে ‘বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সাপোর্টার্স আলফা # ১’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থেকে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছিলেন। এ ছাড়া ‘ইউনিটি কেয়ার ও পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ‘কালআজকাল ডটকম’ নামের একটি পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছিল। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী গুলশান আরার একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম প্রচার ও পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।

কাজী গুলশান আরার বিরুদ্ধে পুলিশ আরও অভিযোগ করেছে, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে আনুগত্য প্রকাশ করেন তিনি। পরে সহযোগীদের নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। ওই সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টক শোতে আইনবলে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা প্রকাশ এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও আনা হয়েছে।

এজাহারে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গ্রেপ্তার দুজন তাঁদের সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরের যোগাযোগ থাকার অভিযোগও করা হয়েছে।

পুলিশের এজাহারে গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮(১), ১০, ১১ ও ১২ ধারায় অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এসব বিষয়ে আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাঁদের সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণা, উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার এবং অবৈধ অর্থায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

আকতার হোসেন আরও জানান, এ ছাড়া ‘ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম ও ‘কালআজকাল ডটকম’ নামের একটি পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।