হোম > সারা দেশ > ঢাকা

গাইবান্ধার সেই হরিদাস প্রতারণার আরও এক মামলায় রিমান্ডে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

হরিদাস চন্দ্র তরণী। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় করা একটি প্রতারণার মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন রিমান্ডের এই আদেশ দেন।

আজ শুনানি উপলক্ষে হরিদাসকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মাসুদ রানা সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতের উত্তরা পশ্চিম থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই হেলাল উদ্দিন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গত ২৪ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলাম নামের একজনকে আসামি করে মামলাটি করেন একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। ১ সেপ্টেম্বর হরিদাসকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, বাদী মাহবুবুর রহমান ও আসামি ওবাইদুল ইসলাম কলেজের বন্ধু। তাঁরা উত্তরা ১২ নম্বরে থাকেন। ওবাইদুল তাঁকে জানান, তিনি অনয় ডেভেলপার কোম্পানির মালিক। খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় তাঁর অফিস। মাহবুব একদিন ওবাইদুলের কাছে নিকুঞ্জ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সে জন্য তিনি ওবাইদুলকে ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দেন। বাসার কাজ শেষ পর্যায়ে চলে আসায় আরও ১৫ লাখ টাকা চাইলে তা-ও দেন। কিন্তু এরপর ওবাইদুল ফ্ল্যাট না দিয়ে ‘ঘোরাতে থাকেন’ এবং টাকা ফেরত চাইলে তা দিতে অস্বীকার করেন।

এরপর ওবাইদুলের নিকুঞ্জ অফিসে যান মাহবুব। তখন ওবাইদুল তাঁকে জানান, তাঁর ব্যবসার অংশীদার হরিদাস চন্দ্র তরণী আসছেন। পরে হরিদাস চন্দ্র তরণী অফিসে গিয়ে মাহবুবকে বলেন, তাঁর কাছে টাকা নেই, ফ্ল্যাট আছে। ফ্ল্যাট দিতে পারবেন।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, হরিদাস চন্দ্র তরণীর কথায় বিশ্বাস রেখে মাহবুব তাঁকে আরও ৪৫ লাখ টাকা দেন। ওবাইদুল ও হরিদাস—দুজনে মোট ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নেন; কিন্তু ফ্ল্যাট আর বুঝিয়ে দেননি।

সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ১২ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে। সেদিন রাতেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালীমন্দির এলাকা থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গত ১৩ জুলাই তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে হরিদাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময় নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ আছে। রাজধানীর বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা রয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বিশাল আকৃতির ৮১ ফুট উঁচু রাম মূর্তি বা বিগ্রহ তৈরির উদ্যোগ ও ঘোষণা দিয়েছিলেন হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস। এরপর তিনি আলোচনায় আসেন।