জনগণের মধ্যে আশা ও সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলতে এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নির্মাণে লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সমৃদ্ধ ও সংগ্রামী ধারাকে রক্ষা এবং বিকশিত করার লক্ষ্যে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব মফিজুর রহমান লাল্টু।
তিনি জানান, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সকাল ১০টায় সাংবাদিক ও লেখক নূরুল কবীর কনভেনশনের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। পরে একটি ছোট র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে থাকবেন উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের কেন্দ্রীয় ছাত্রনেত্রী দীপা দত্ত, লেখক-অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ এবং কারাবরণকারী বাউল শিল্পী আবুল সরকার। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাংগঠনিক অধিবেশন এবং পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। কনভেনশনের স্লোগান—‘কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্য-কালের ডাক’।
লিখিত বক্তব্যে লাল্টু বলেন, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন হলেও বৈষম্য সৃষ্টিকারী সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এখনো অক্ষত রয়েছে। মব সন্ত্রাস, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা, আদিবাসী নিপীড়ন, নারীদের হেনস্তা এবং মুক্তচিন্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর আক্রমণের মতো ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, ব্যক্তি বা দলের পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের মৌলিক পরিবর্তন এবং শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বব্যাপী সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন। ২০২৪ সালে ৩১টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলে ‘গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য’ মোর্চা গঠন করে। এর আগে ২০২৩ সাল থেকে সংগঠনগুলো ‘প্রতিবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ’-এর ব্যানারে যৌথভাবে কাজ করে আসছিল।