হোম > সারা দেশ > ঢাকা

এক্সপ্রেসওয়েতে লাশ: হত্যার জবানবন্দি দিলেন সুপারভাইজার-হেলপার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

গ্রেপ্তার ‘রাজ ক্লাসিক’ পরিবহনের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার। ছবি: ডিএমপি

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বাসের সুপারভাইজার ও চালকের সহকারী হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আর একই পরিবহনের চালককে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের পরিবহনের সুপারভাইজার সাজু লস্কর ও সহকারী (হেলপার) মাহবুব আলম মনির ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আর চালক সোহেল রানাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

জবানবন্দিতে যা জানালেন সুপারভাইজার ও হেলপার

নিহত ইসমাইলের কোমরে গুঁজে রাখা টাকা দেখতে পেয়ে লোভে পড়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে— তাঁরা এমন জবানবন্দি দিয়েছেন বলে আদালতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দুই আসামি আদালতকে জানান, গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইলকে যাত্রী হিসেবে বাসে তোলা হয়। সুপারভাইজার সাজু যখন ইসমাইলের কাছে ভাড়া চান, তখন তিনি তাঁর কোমরের লুঙ্গির ভাঁজ বা কোচর থেকে টাকা বের করার সময় সেখানে অনেক টাকা দেখতে পান। বিষয়টি সাজু বাসচালক সোহেলকে জানান যে, ওই যাত্রীর কাছে অনেক টাকা রয়েছে। সম্ভবত তিনি ব্যবসায়ী বলেও ধারণা করেন তাঁরা।

পরে টাকাগুলো হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বাসচালক একটি পরিকল্পনা করেন।

জবানবন্দিতে ওই দুই আসামি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী চান্দুরা বাসস্ট্যান্ডে ইসমাইলকে না নামিয়ে অন্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দিয়ে ঢাকার দিকে আসতে থাকেন। একপর্যায়ে সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে ইসমাইলের মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং গামছা পেঁচিয়ে তাঁর শ্বাস রোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

পরে বাস থেকে লাশ ফেলার বিষয়ে আসামিরা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর তাঁরা বিমানবন্দর দিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বনানীতে যান। সেখান থেকে ইউটার্ন করে উল্টো পথে আবার বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার সময় ইসমাইলের মরদেহ এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রেখে চলে যান। এ সময় টাকা ও ইসমাইলের কাছে থাকা মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য জিনিস নিয়ে নেন তাঁরা।

জবানবন্দিতে আসামিরা আরও জানিয়েছেন, বাসে উঠে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েন ইসমাইল। এর আগে সুপারভাইজার তাঁকে গন্তব্যস্থল এলে ডেকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সঙ্গে টাকা দেখে ফেলার পর লোভ সামলাতে না পেরে তাঁরা ইসমাইলকে আর ঘুম থেকে ডাকেননি। এরই মধ্যে তাঁরা তিনজন টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

দুই আসামি জবানবন্দিতে জানান, ইসমাইলকে হত্যার আগে বাসের সব যাত্রীকে তাঁরা বিভিন্ন গন্তব্যস্থানে নামিয়ে দেন। যখন হত্যা করা হয়, তখন বাসের মধ্যে ইসমাইল একাই ছিলেন।