ছিনতাইয়ের কবলে শিক্ষিকা নিহত
ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে স্কুলশিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি দেওয়া দুজন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার মো. খোকন ও রাজিব মাতবর।
তবে দুজনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাঁদের আগে র্যাবের (বর্তমান এসআরবি) হাতে গ্রেপ্তার তিনজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার পৃথক পৃথক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেন দুই আসামি। পুলিশ প্রতিবেদনে দুজনকে পেশাদার ছিনতাইকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামি খোকন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে ও আসামি রাজিব ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে তাঁদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এ দিন দুপুরে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি লেখার আবেদন করেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন শেরেবাংলা নগর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম।
রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। গত ২৯ আগস্ট চোখের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে ভোরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটসংলগ্ন পাকা রাস্তায় অটোরিকশা করে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তাঁর হাতের ব্যাগ ধরে টান দেয়। ছিনতাইকারীর টানে রনজিলা চলন্ত রিকশা থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহত রনজিলা পারভীনের স্বামী আবদুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
এর আগে ঘটনার পর মো. পনি ওরফে প্যারা পনি ওরফে পনি গাজী, সেড্রিক জুলিয়ান ও রাকিব হোসেন নামে তিনজনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং রিমান্ডে নেওয়া হয়। তাঁরা রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন।
আদালতের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, স্বীকারোক্তিতে আসামিরা বলেছেন, নিহত শিক্ষিকাকে হত্যার কোনো ইচ্ছা তাঁদের ছিল না। তাঁরা পেশাদার ছিনতাইকারী। তাঁদের বিরুদ্ধে আরও অনেক মামলা রয়েছে।
আসামিরা আদালতকে জানান, গত ২৯ আগস্ট ঘটনার সময় রাজীব মাতব্বর নীল রঙের মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন এবং খোকন পেছনে বসা ছিলেন। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে (খেজুরবাগানের মুখে) রিকশায় থাকা শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের ব্যাগ লক্ষ্য করে হ্যাঁচকা টান দেন খোকন। টান সামলাতে না পেরে ওই শিক্ষিকা চলন্ত রিকশা থেকে পাকা রাস্তায় ছিটকে পড়েন এবং মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান। এরপর তাঁরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান।
আসামিরা আদালতকে আরও বলেছেন, তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে নিহত শিক্ষিকার ছিনতাই হওয়া ব্যাগ উদ্ধার করে ডিবি। ব্যাগের ভেতর থেকে ওই শিক্ষিকার ব্যবহৃত পোশাক, চশমার খাপ, ওষুধ ও ট্রেনের টিকিটের অংশবিশেষ পাওয়া যায়। এ ছাড়া মিরপুর-১ এলাকা থেকে নিহত রনজিলা পারভিনের মোবাইল ফোন এবং দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত নীল রঙের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।