হোম > সারা দেশ > ঢাকা

গরু আমদানির ভুয়া অনুমোদনপত্র

সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষর জালের মামলায় কারাগারে অতিরিক্ত এসপি শাহাবুদ্দীন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে গরু আমদানির ভুয়া অনুমোদনপত্র তৈরি করার অভিযোগে করা মামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাময়িক বহিষ্কৃত) শাহাবুদ্দীন আহমদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এই নির্দেশ দিয়েছেন।

এ-সংক্রান্ত মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত শাহাবুদ্দীন আহমদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে কক্সবাজারের শাহপরীর দ্বীপ করিডর দিয়ে মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি করা হলেও ২০১৯ সালের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুনরায় আমদানি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা থেকে কক্সবাজারের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন রবিন সরকারি অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করেন। এ জন্য তিনি স্থানীয় পরিচিত ব্যক্তি খোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খোরশেদ আলম একজন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক ও যুগ্ম সচিব মফিদুল আলমের ভাই। সরকারি উচ্চপর্যায়ে সংযোগ থাকার কথা বলে খোরশেদ আলম গরু আমদানির অনুমোদন নিয়ে দিতে পারবেন বলে আলাউদ্দিন রবিনকে আশ্বস্ত করেন। একপর্যায়ে তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলা হয়।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুপারিশসহ পাঁচ লাখ গরু আমদানি করার মঞ্জুরিপত্র ইস্যু করা হয়। পরে আলাউদ্দিন রবিন ঢাকায় এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, এমন কোনো আবেদন মন্ত্রণালয়ে আসেনি। পরে এ ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা করা হয়।

তদন্ত শেষে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় ডিবি। তদন্তে উঠে আসে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাময়িক বহিষ্কৃত) শাহাবুদ্দীন আহমদসহ পাঁচজনের একটি চক্র প্রতারণার মাধ্যমে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আবুল কালাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আলাউদ্দিন রবিনের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ লাখ গবাদিপশু আমদানির অনুমতি দেওয়ার পত্রটি ভুয়া। এই অনুমতিপত্রে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুপারিশসহ স্বাক্ষর পুলিশ কর্মকর্তা শাহাবুদ্দীনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে জাফর ইকবাল নামের এক ব্যক্তির নম্বরে পাঠানো হয়, যা পরে খোরশেদ আলমের হাত ধরে আলাউদ্দিনের কাছে পৌঁছায়।

এরপর গত ১৯ মার্চ অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নম্বর থেকে জাফর ইকবালের নম্বরে ‘তাজিনা সরোয়ার, উপসচিব (সীমান্ত-০৩ শাখা) জননিরাপত্তা বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা’-এর সিল ও স্বাক্ষরসহ একটি ভুয়া আদেশনামা পাঠানো হয়। তদন্তে জানা যায়, শাহাবুদ্দীন আহমদের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হজরত আলী নামের এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধন করা। হজরত আলীর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। শাহাবুদ্দীন আহমদ নিজের পরিচয় গোপন রাখতে অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভুয়া ডকুমেন্ট পাঠাতেন।

শাহাবুদ্দীন ছাড়াও এ মামলায় অন্য যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে, তাঁরা হলেন জাফর ইকবাল ওরফে রাঙ্গা, মো. আব্দুল্লাহ জাবেদ, খোরশেদ আলম ও মো. হজরত আলী।