ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার ভ্রাম্যমাণ সিলিন্ডার লরিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ ৪ জনকে ইতিমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত জয়নব বেগম (৫৫) গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকার মো. আলীর স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই বিকট শব্দে লরির সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয় এবং চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় লরির যন্ত্রাংশ বা সিলিন্ডারের অংশ ছিটকে গিয়ে পার্শ্ববর্তী দোকানে থাকা ওই নারীকে সজোরে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রীতি গ্রুপের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী সাত থেকে আটটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের চেষ্টায় রাত পৌনে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম বলেন, কারখানার গেটের সামনে থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কারখানার ভিতরে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের কোম্পানির পরিত্যক্ত একটি জায়গায়। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনে প্রীতি গ্রুপের পোশাক কারখানাগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় সূত্র ও কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিল্পাঞ্চলের যেসব কারখানায় গ্যাস ব্যবহার করা হয়, সেসব কারখানার জন্য বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করা হয়। এ জন্য বিভিন্ন কারখানায় একাধিক গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যান রয়েছে। প্রীতি গ্রুপেরও এ ধরনের কয়েকটি কাভার্ড ভ্যান রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, সন্ধ্যায় গ্যাসভর্তি ১০ থেকে ১২টি কাভার্ড ভ্যান প্রীতি গ্রুপের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে রাখা ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ একটি কাভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে ওই ভ্যানে আগুন ধরে যায়।
আগুনের স্ফুলিঙ্গ ও বিস্ফোরিত সিলিন্ডারের অংশ আশপাশের অন্য কাভার্ড ভ্যানে গিয়ে পড়লে সেগুলোতেও আগুন ধরে যায়। একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে সাত থেকে আটটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার পরপরই প্রীতি গ্রুপ কর্তৃপক্ষ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা উত্তরের জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, কাভার্ড ভ্যানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে আগুনে কারখানার কোনো ক্ষতি হয়নি।