হোম > সারা দেশ > ঢাকা

অডিও ছড়িয়ে প্রত্যাহার: এবার ডিবি হেফাজতে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

সরকার, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার প্রত্যারকৃত ওসি মো. রাকিবুল হাসানকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে তাঁকে নেওয়া হয়।

ডিবির একজন যুগ্ম কমিশনার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ছড়িয়ে পড়া অডিওর বিষয়ে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে রাকিবুল হাসানকে ডিবিতে নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে এ ধরনের অনুসন্ধান করতে হয়।

বিষয়টি জানতে ডিবিপ্রধান শফিকুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

রাকিবুল হাসানের নামে প্রচারিত ওই অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘রাস্তায় থাকা পুলিশ খুবই দুর্বল। শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে ফিরে আসে, তবে তারা কিছুই করতে পারবে না।’

অডিওতে ওই ব্যক্তি আরও দাবি করেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন, তবে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তা করছেন না। এ ছাড়া পুলিশের পদায়নে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও তাঁকে কথা বলতে শোনা যায়।

অডিওটির কথোপকথনের বিষয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ডিএমপি। এরই মধ্যে কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে। কমিটি প্রত্যাহার হওয়া ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এ জন্য তাঁকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে আইনি নোটিশ দিয়েছেন এক আইনজীবী। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু স্বরাষ্ট্রসচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বরাবর এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটির সত্যতা, উৎস, সম্পাদনা বা বিকৃতির সম্ভাবনা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়। তদন্তে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের আইনগত উপাদান ও প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, রাকিবুল হাসান রাকিব একসময় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা ও কুমারখালী থানায় কর্মরত ছিলেন। ওই সময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বিএনপিসহ বিরোধী দল দমনে তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানেও তাঁকে সক্রিয় দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে আতশবাজি ফোটানো ও কেক কাটতেও দেখা যায়।

৫ আগস্টের পর রাকিবুল হাসানকে প্রথমে ডিএমপির ভাটারা থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। পরে তিনি গুলশান থানার ওসি হন। সর্বশেষ গুলশান থানা থেকে তাঁকে সরিয়ে গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। সম্প্রতি তাঁকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়।