রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ‘পাটালি গ্রুপের’ সেকেন্ড ইন কমান্ড শামীম পাটালিসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি এবং বেশ কয়েকটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান এসব তথ্য জানান।
নয়মুল হাসান বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে পাটালি গ্রুপ সক্রিয়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর রায়েরবাজারে একই পরিবারের সাত সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায়ও এই গ্রুপটি আলোচনায় আসে।
র্যাব জানায়, ২৭ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে পাটালি গ্রুপের সদস্য খোকন মুন্সী ও সজীব ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকা থেকে শামীম পাটালিকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে শাকিউল করিম ও আরিফকে একটি চাপাতিসহ এবং বাবর রোড এলাকা থেকে হৃদয় ও নয়নকে আরেকটি চাপাতিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ২৪ জুন রায়েরবাজার এলাকা থেকে গ্রুপটির আরও দুই সদস্য জুয়েল ও শাকিলকে একটি তরবারিসহ গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব।
র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পথচারী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ছিনতাই করে আসছিল।
র্যাব জানায়, শামীমের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় চুরি, দস্যুতা, হত্যাচেষ্টা, গুরুতর আঘাত ও মাদকসহ আটটি মামলা রয়েছে। আরিফের বিরুদ্ধে রয়েছে চারটি মামলা। খোকন মুন্সীর বিরুদ্ধে একটি মাদক ও একটি যৌতুক মামলা, সজীব ব্যাপারীর বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা, হৃদয়ের বিরুদ্ধে সাতটি এবং জুয়েলের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদপুরের আলোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরমান ও শাহরুখ গ্রুপের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাব-২-এর অধিনায়ক বলেন, ‘টাইম উইল সে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত অনেক বিস্তৃত। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।’
মোহাম্মদপুর কবে নিরাপদ হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুলিশ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় মোহাম্মদপুর নিরাপদ হবে।’
র্যাব আরও জানায়, পাটালি গ্রুপের সদস্যরা গত ১৫ মে মোহাম্মদপুরে একই পরিবারের সাত সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় জড়িত। এ মামলার দুই আসামি রানা পাটালি ও রাসেল পাটালি এরই মধ্যে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছে।