হোম > সারা দেশ > ঢাকা

জন্মের পর আশ্রয় হয়েছিল ছোটমণি নিবাসে, তিন মাসেই থেমে গেল মুনার জীবন

অর্চি হক, ঢাকা 

বয়স হয়েছিল মাত্র তিন মাস ১৮ দিন। পৃথিবীর আলো-বাতাসে চোখ মেললেও পৃথিবীটা চেনা হয়নি তার। মুখে বুলি ফোটার আগেই হাম-পরবর্তী জটিলতায় থমকে গেল শিশু মুনার জীবন। ছবি: সংগৃহীত

মুনা পৃথিবীতে এসেছিল মাত্র তিন মাস ১৮ দিন আগে। জন্মের পর মায়ের উষ্ণ স্পর্শ বা পরিবারের ভালোবাসা তার ভাগ্যে জোটেনি। মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুটি আশ্রয় পায় রাজধানীর আজিমপুরের সরকারি ছোটমণি নিবাসে। কিন্তু মুখে বুলি ফোটার আগেই সেই জীবন থেমে গেল। হাম-পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় গতকাল সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে মুনা।

ছোটমণি নিবাস সূত্র বলেছে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে গত ৫ মার্চ জন্ম হয় শিশুটির। জন্মের এক সপ্তাহ পর, ১২ মার্চ তাকে উদ্ধার করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছোটমণি নিবাসে নেওয়া হয়।

ছোটমণি নিবাসের শিক্ষক লাভলী পারভীন জানান, মুনাসহ নিবাসের বেশ কয়েকটি শিশু সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে মুনাকে নিবাসে ফিরিয়ে আনা হলেও সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি। হামের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার পরও শিশুটি ছিল অত্যন্ত দুর্বল।

লাভলী পারভীন বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে আসার পর থেকেই ও খুব দুর্বল ছিল। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করত না। আমরা আবার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। হাম থেকে সুস্থ হয়ে ফেরা অনেক শিশুই এখনো দুর্বল অবস্থায় আছে।’

নিবাস কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবারও মুনাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন রোববার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।

ছোট্ট মুনার মৃত্যুতে ছোটমণি নিবাসজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আজ মঙ্গলবার সেখানে ছুটে যান সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। দাতব্য প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মুনার দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের দাফনসেবা কর্মকর্তা কামরুল আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, সকাল ১০টা নাগাদ শিশুটির দাফনের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।

মুনার জীবনের গল্পটি ছিল শুরু থেকেই অসম্পূর্ণ। জন্মের পর মাকে হারিয়ে ফেলা শিশুটি কখনো পরিবার পায়নি। সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের পরিচর্যাকারীরাই ছিল তার পৃথিবী। কিন্তু সেই পৃথিবীতেও তার সময় ছিল মাত্র তিন মাস ১৮ দিন।

ছোটমণি নিবাসে এ বছর অন্তত ১৮টি শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল মারা যায় ১৪ মাস বয়সী আরিসা। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যে গত ৫ মে মারা যায় মেহেদী। তার বয়স হয়েছিল মাত্র পাঁচ মাস। এরপর ৩১ মে মারা যায় এক বছরের খুশবু। পরিবারহারা এই তিন শিশুর মতো মুনাও হামের সঙ্গে লড়াই করে হার মানল।

ছোটমণি নিবাসে মা-বাবার আদরবঞ্চিত নবজাতক থেকে ৭ বছর বয়সী পর্যন্ত পরিত্যক্ত ও পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের লালন-পালন করা হয়। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশালে ছোটমণি নিবাস রয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিষ্ঠান শাখা এসব নিবাস পরিচালনা করে।

আজিমপুর ছোটমণি নিবাস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ৩৬টি শিশু রয়েছে। এর মধ্যে একজন এখনো হামে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শিবলী রুবাইয়াতসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক, ৩ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সপ্তাহব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন শুরু

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন

রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৮ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার ‎

কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে ঢাবির রোকেয়া হলের মালির মৃত্যু

জঙ্গি তৎপরতার আলামত নেই, নাশকতা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতায় পুলিশ: ডিএমপি কমিশনার

‎ধানমন্ডি ৩২ থেকে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি আটক‎

পবিত্র আশুরায় থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তাবলয়: ডিএমপি কমিশনার

‎ধানমন্ডি ৩২-এ জামায়াতের মিছিল শেষে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ‎

‎রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৬ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার