দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, ধাপে ধাপে এসব হাসপাতালে মেডিসিন, গাইনি ও শিশু রোগসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে। এর ফলে উপজেলা পর্যায়েই অধিকাংশ রোগের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আজ শনিবার সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাভারে নির্মিত হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত বলেন, দেশের ৫০ ও ৩০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল। তবে গতকাল শুক্রবারের এক বৈঠকে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও এ পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৫১ শয্যার হাসপাতালগুলোয় পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা থেকে জেলা বা রাজধানীমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে। মানুষ যেন নিজের উপজেলাতেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবারের বাজেটে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ বরাদ্দ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ নিজ নিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন ও অগ্রগতি দেখতে পাবেন।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।