চেক প্রতারণার মামলার আসামি নাসরিন শিকদার সেজে আদালতে আত্মসমর্পণ করে ধরা পড়েছেন মনোয়ারা বেগম। আদালত পরে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে আজ বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটে।
মিথ্যা পরিচয় দিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ, প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির অভিযোগে মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলাও করা হয়েছে। তাঁর স্বামীর নাম বিল্লাল হোসেন। তিনি সূত্রাপুর থানাধীন কলতাবাজারে থাকেন। গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চেক প্রতারণার একটি মামলার আসামি নাসরিন শিকদার। তিনি গুলশান ২ নম্বরের ১০৬ নম্বর রোডে থাকেন। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামতা পঞ্চপল্লী গ্রামের শামসুল হকের মেয়ে তিনি। তাঁর স্বামীর নাম জিয়াউর রহমান।
এই মামলায় ১৬ জুন নাসরিন শিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। সেদিন তিনি অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আজ আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসেনের মাধ্যমে নাসরিন শিকদার আত্মসমর্পণ করেন। শুনানির সময় নথি উপস্থাপন করা হলে আদালত আসামিকে ডাকেন। কিন্তু তাঁর চেহারা দেখে আদালতের সন্দেহ হলে তাঁর নাম-ঠিকানা, বাবা ও স্বামীর নাম জানতে চান। জবাবে তিনি এলোমেলো কথা বলেন।
বিভিন্ন প্রশ্ন করার একপর্যায়ে স্বীকার করেন, তিনি নাসরিন শিকদার নন। পরে আদালত তাঁকে আটক করার নির্দেশ দেন। পুলিশ তাঁকে আটক করে।
পুলিশ আটক করার পর ক্ষমা চেয়ে কান্না করতে থাকেন মনোয়ারা বেগম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি খুব গরিব। স্বামী অসুস্থ। গৃহকর্মীর কাজ করে তিনি সংসার চালান। তাঁকে এক আইনজীবী আদালতে নিয়ে আসেন। তাঁকে বলা হয়েছিল, আদালতে কিছুক্ষণ দাঁড়াতে হবে, এর বিনিময়ে তাঁকে কিছু টাকা দেওয়া হবে। তিনি এতে রাজি হয়ে আদালতে আসেন।
আদালতের অতিরিক্ত পিপি ইদ্রিস আলী ও এপিপি কামরুজ্জামান সুমন আজকের পত্রিকাকে জানান, প্রকৃত আসামি নাসরিন শিকদার সেজে মনোয়ারা বেগম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। এটি ২৯ লাখ টাকার চেক প্রতারণার মামলা। আসামির চেহারা, বেশভূষা দেখে মনে হয়েছে, তিনি এত টাকা ঋণ নেওয়ার মতো নন। এই সন্দেহে আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত তথ্য উঠে আসে। পরে আদালত তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল অপু জানান, প্রকৃত আসামি নাসরিন শিকদারের পরিবর্তে আদালতে আত্মসমর্পণকারী মনোয়ারা বেগম, আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসেন ও আসামির পক্ষে নিয়োজিত অন্য আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এই আসামির দাখিল করা জাতীয় পরিচয়পত্রে মূল আসামির নাম-ঠিকানা থাকলেও ছবি পরিবর্তন করে মনোয়ারা বেগমের ছবি লাগানো হয়েছে।
মামলার নথি থেকে দেখা যায়, নিকুঞ্জ-২ এলাকার বাসিন্দা নিবেদিতা আহমেদ তুলিকে তাঁর পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য নাসরিন শিকদার ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ২৯ লাখ টাকার ব্র্যাক ব্যাংকের একটি চেক দেন। তুলি সোনালী ব্যাংকে চেকটি জমা দিলে ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি তা হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় প্রত্যাখ্যাত (ডিজঅনার) হয়।
এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ তুলি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। পরে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে নাসরিন শিকদার জামিন পান। এরপর মামলা বিচারের জন্য চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।