ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ক্যানটিন ও ক্যাফেটেরিয়াগুলোতে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। এতে রান্নার সময় যেমন বেড়েছে, তেমনি বাড়ছে জ্বালানি ব্যয়। বাড়তি এই খরচের প্রভাব পড়ছে খাবারের দাম, পদসংখ্যা ও মানে। কোথাও আবার রান্না শেষ করতে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে খাবার সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি আবাসিক হলের ক্যানটিন, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকসু ভবনের নিচতলার কলাভবন ক্যাফেটেরিয়া ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
ক্যানটিন পরিচালকদের কেউ কেউ বলছেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় সামাল দিতে খাবারের দাম সমন্বয় করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
সূর্যসেন হল ক্যানটিনের পরিচালক মোহাম্মদ আলী রাজু বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার টাকার লাকড়ি প্রয়োজন হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় বা হল প্রশাসনের মাধ্যমে হলেও এখন লাকড়ির বাড়তি খরচ ক্যানটিনকেই বহন করতে হচ্ছে।
একই ক্যানটিনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মামুন বলেন, লাকড়ির বাড়তি খরচ সামাল দিতে এক-দুটি খাবারের দাম পাঁচ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। তবে সব পদের দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ারও চেষ্টা করছেন তারা। সংকটকালে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জ্বালানি ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ক্যানটিনের পরিচালক তৌহিদ বলেন, প্রায় এক মাস ধরে গ্যাসের সমস্যা থাকায় প্রতিদিন দুই-তিন মণ লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। এতে মাসে অতিরিক্ত প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।
গ্যাস-সংকটের প্রভাব পড়েছে টিএসসির ক্যাফেটেরিয়াতেও। সম্প্রতি ক্যাফেটেরিয়া কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নোটিশ দিয়েছে। একই পরিস্থিতি দেখা গেছে ডাকসু ভবনের নিচতলার কলাভবন ক্যাফেটেরিয়াতেও।
শিক্ষার্থীরাও বলছেন, রান্নায় বেশি সময় লাগার কারণে নির্ধারিত সময়ে খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও আবার আগের তালিকার সব পদও নিয়মিত থাকছে না। এতে ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা অন্যান্য কাজে ব্যস্ত শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
এ বিষয়ে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে লাকড়ি দিয়ে রান্নার ফলে ক্যানটিনগুলোতে রান্নার খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব কোথাও খাবারের দামে, কোথাও পরিমাণ ও মানে পড়তে পারে। সংকটকালে ক্যানটিনগুলোকে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার বিষয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী কাজী আকরাম হোসেন। তিনি বলেন, এর আগেও একাধিকবার বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এটি জাতীয় সমস্যা হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একক উদ্যোগে এর পূর্ণাঙ্গ সমাধান সম্ভব নয়।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে হলগুলোর ক্যানটিনে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে প্রকৌশল দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সংকট আরও বাড়লে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।