চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষরের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। সংগঠনটির ভাষ্য, চুক্তি স্বাক্ষরের ‘ভয়াবহ পরিণতি’র জন্য সরকারকে দায়ী থাকতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মারজিয়া প্রভা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় মিলনায়তনের বাইরে বিভিন্ন বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক সংগঠন বিক্ষোভ করে।
এ সময় পুলিশের হামলায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য সীমা দত্ত, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, মনিরুজ্জামান মিলন, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনীষা চক্রবর্তী এবং ছাত্র ইউনিয়নের আসিফ জামানসহ অনেকে আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির দাবি, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ই চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারও দ্রুত চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নেয়।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটিসহ বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলো আন্দোলন শুরু করলে সরকার চুক্তির উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে আসে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন বাধা ও বিরোধিতা উপেক্ষা করে আজ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির অভিযোগ, সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর চাপের কাছে সরকার নতি স্বীকার করছে। মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা না করা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং ও ফ্রান্স থেকে এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত এবং বন্দরের শ্রমিকদের দাবি ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন উপেক্ষা করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। এই বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো বা কৌশলগত সম্পদ বিদেশি স্বার্থের কাছে হস্তান্তর দেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, ভবিষ্যতে এই চুক্তির কোনো ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে।