শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের মামলা
হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ২০১৩ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁদের এক দিন করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। সে সঙ্গে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ রোববার প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন।
এই মামলার আসামিরা হলেন দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা। তাঁদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।
এই মামলার আসামিদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ অনেকেই পলাতক।
গত ৭ মে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ফারজানা রুপা তাঁর সমীকরণ নামের একটা অনুসন্ধান রিপোর্ট প্রচার করেছেন কিছু বিতর্কিত মানুষের বক্তব্য নিয়ে। ৭১ টেলিভিশন, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাদের ভূমিকা ছিল হেফাজতে ইসলামের ঘটনাটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা। তাঁরা পূর্বপরিকল্পনামাফিক ও সিস্টেমেটিক্যালি প্ল্যান ওয়াইজ এসব কাজ করেছেন। ফারজানা রুপা বরাবরই বিতর্কিত ভূমিকায় থাকতেন।
হেফাজতের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ৫৮ জনের পরিচয় তদন্ত সংস্থা নিশ্চিত করেছে বলেও জানান তিনি।