চেক প্রতারণার মামলায় আসামি না হয়েও নামের মিল থাকায় চার মাস কারাভোগ করা এক ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেয়েছেন ৩০ লাখ টাকা। এই ক্ষতিপূরণ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মামলার বাদীপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী মামুন মিয়া ও মামলার বাদী বিশ্বাস পোলট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিড লিমিটেডের প্রতিনিধি ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে আপসনামা দাখিল করেন। ওই আপসনামার মাধ্যমে বাদীপক্ষ ভুক্তভোগী মামুন মিয়ার কাছে ক্ষমা চায়। পরে বাদীর বিরুদ্ধে মামুন মিয়ার অভিযোগ বিচারক তানিয়া সুলতানা লিপি নিষ্পত্তি করে বাদীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া ইব্রাহিম খলিল অপু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি থেকে দেখা যায়, ২০১৯ সালে মামুন মিয়া নামের এক ব্যক্তি দেনা পরিশোধের জন্য বিশ্বাস পোলট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিড লিমিটেডকে ৩২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা সত্ত্বেও এই চেক দেওয়া হয়। ওই চেক ব্যাংকে দাখিল করার পর পর্যাপ্ত টাকা নেই বিধায় ডিজঅনার হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিশ্বাস পোলট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিড লিমিটেড আদালতে মামলা করে। চেক প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় ২০২৫ সালের ২৯ জুন আদালত মামুন মিয়া নামের ওই ব্যক্তিকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৩২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। কিন্তু আসামি পলাতক থাকায় সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পরে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মামুন মিয়াকে নরসিংদীর শিবপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু মামুন মিয়া আদালতে দাবি করেন, তিনি ওই মামলার প্রকৃত আসামি নন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বা চেকের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।
এরপর আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে নরসিংদীর শিবপুর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দেন—কারাগারে থাকা মামুন মিয়া প্রকৃত আসামি নন; কেবল নামের মিলের কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ১৯ মে আদালত মামুন মিয়াকে অব্যাহতি দেন। পরদিন তিনি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তির পর অন্যায়ভাবে কারাভোগের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ ও শাস্তির আবেদন করেন মামুন মিয়া। ওই আবেদনের পর বাদীপক্ষ ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে মামুন মিয়ার সঙ্গে আপস করেন।
মামুন মিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া জাদু বলেন, বিশ্বাস পোলট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিঃশর্তভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল আর হবে না বলে আশ্বাস দেওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী মামুন মিয়া অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন।
উল্লেখ্য, নামের মিল থাকায় একজনের পরিবর্তে আরেকজনের অর্থাৎ মামুন মিয়ার কারাভোগ করার বিষয়টি চলতি বছরের প্রথম দিকে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।