রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া (আলিয়া মাদ্রাসা) চত্বরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা চত্বরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে মাদ্রাসার সামনের সড়কে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক (৫০), মাদ্রাসার ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ (৩০), লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিছার উদ্দিন রাব্বি (২৭), ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি শামীম মাহমুদ (৩০), সমকালের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম (২৬), লালবাগ ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক জানে আলম (৪৮) ও মাদ্রাসার ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল হোসেন মমিন (৩০)।
আহত নিছার উদ্দিন রাব্বি অভিযোগ করেন, তিনি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নন। বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে মাদ্রাসা চত্বরে বসে থাকাকালে শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা জানান, সানাউল্লাহর দুই পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে। রাব্বির বাম পায়ে ইটের আঘাত ও পড়ে গিয়ে বাম হাতে চোট লেগেছে। সাংবাদিক নাজমুল ইসলামের পায়ে ইটের আঘাত এবং অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হকের মাথায় আঘাত রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় কিল-ঘুষির আঘাতে আহত ঢাকা কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সহসভাপতি রাইসুল ইসলাম (২৪) ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।