কসমেটিকস ও রূপচর্চার মাধ্যমে মানুষের রূপ ফুটিয়ে তোলার একটি আধুনিক ও সৃজনশীল পেশার সঙ্গে যুক্ত মেকআপ আর্টিস্ট সাদিয়া ইয়াসফিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় নিহতের প্রেমিক নামীম আশরাফ মনিসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
আজ সোমবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৫ এ এই মামলা দায়ের করেন সাদিয়ার বোন রাজিয়া সুলতানা। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করার পর ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মনিরুজ্জামান গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্য দুই আসামি হলেন—নামীম আশরাফের বাবা আশরাফ উদ্দিন সোহেল ও মা মোসাম্মাৎ শাহানাজ বেগম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদীর বোন সাদিয়া ইয়াসফিয়া (২৪) মেকআপ আর্টিস্টের কাজ করতেন। অপরদিকে মূল অভিযুক্ত নামীম আশরাফ (৩৭) ফটোগ্রাফির কাজ করতেন। ২০২৪ সালের কোনো একদিন শুটিং প্রোগ্রামে তাঁদের সঙ্গে পরিচয় হয়। এভাবে বিভিন্ন শুটিং প্রোগ্রামে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক হয়।
মামলার আরজিতে বলা হয়, প্রেমের সম্পর্ক বলবৎ থাকা অবস্থায় তাঁরা বিয়ের কথাবার্তা বলেন। উভয়ের পরিবার বিষয়টি জানত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ জুন সাদিয়ার বড় বোন, বড় ভাই ও পরিবারের সদস্যরা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসামিদের গেন্ডারিয়ার ঢালকান গলির বাসায় যান। ওই বাসায় নামীম আশরাফের মা-বাবা বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দেন। তাদের ছেলের সঙ্গে সাদিয়াকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে হিতে–বিপরীত হবে বলে হুমকি দেন।
মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার পর গত ১০ জুন নামীম আশরাফ মোহাম্মদপুর উদ্যানে সাদিয়াদের বাসায় যান। ওই দিন রাত ৮টার দিকে বাদীর ছোট বোনকে নামীম আশরাফ ডেকে নিয়ে যান। এরপর সাদিয়া আর ফিরে আসেননি। এরপর ১৪ জুন রাজধানীর আদাবরের শেখের টেক–১২ এর কাদের পাটোয়ারীর বাসার দোতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই বাসাটি আসামি নামীম আশরাফের ভাড়া করা বাসা ও তার স্টুডিও।
বাদী মামলায় অভিযোগ করেছেন, তার ছোট বোন সাদিয়াকে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের সময় বাদী ঘটনাস্থলে গিয়ে এক নম্বর আসামির মা ও বাবাকে ঘটনাস্থলে দেখতে পেয়েছেন।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার পর এই হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেন আসামিরা। পুলিশও তাদের সহযোগিতা করে। পরদিন পুলিশকে দিয়ে একটি এজাহার লিখিয়ে বাদীর ভাইকে দিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করায়।
মামলায় বলা হয়েছে, ওই মামলাটি ভুক্তভোগীর ভাইকে ভুল বুঝিয়ে দায়ের করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে মামলার বাদী রাজিয়া সুলতানা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমার বোন সাদিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাতে এই ধরনের ঘটনা আর কেউ ঘটাতে সাহস না পায়।’