ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হযরতপুর ইউনিয়নের আলিপুর এলাকায় মেঘনা ফার্টিলাইজার লিমিটেড নামের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে র্যাব-১০ ও উপজেলা প্রশাসন। নকল সার ও নিষিদ্ধ কীটনাশক তৈরি এবং মোড়কজাত করার দায়ে জিয়াউর রহমান নামে একজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার র্যাব-১০, কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও কৃষি বিপণন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
র্যাব-১০-এর অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তপন সরকার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে বিভিন্ন নামী-দামি কোম্পানির মোড়কে ভেজাল সার ও কীটনাশক এবং সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করা হয়। জব্দ করা আলামত বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
প্রায় পাঁচ বছর আগেও একই কারখানায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথের নেতৃত্বে ওই অভিযানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সে সময় কারখানাটিতে বিভিন্ন নামী-দামি কোম্পানির মোড়কে নকল কীটনাশক ও টিএসপি সার তৈরির অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযানসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, লাল মাটি, ইটের গুঁড়া, বালি, খৈল ও সয়ামিলসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে সেখানে নকল সার ও কীটনাশক তৈরি করা হচ্ছিল।
স্থানীয়দের দাবি, আগের অভিযানে কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধ করে কিছু কাঁচামাল ও রাসায়নিক ধ্বংস করা হলেও পরে আবার কার্যক্রম শুরু হয়। কারখানাটি যে বাড়িতে অবস্থিত, সেটির মালিক একজন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা বলেও দাবি স্থানীয়দের।
তবে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, ‘অভিযান চালিয়ে ভেজাল সার ও নকল কীটনাশক জব্দ করা হয়েছে। একজনকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কারখানার মালিকের পরিচয় জানা যায়নি।’