রাজধানীর পূর্ব বাড্ডায় বেসরকারি মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র ছাত্র নাসিম আহাম্মদ ইমাদ উদ্দিনকে হত্যার দায়ে তাঁর বন্ধু আসিফ শিকদারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার আজ মঙ্গলবার এই হত্যা মামলার রায় দেন।
ঘটনার নয় বছর পর এই মামলার রায় হলো। ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী তানজীল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসিফ পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে নাসিম পূর্ব বাড্ডার পোস্ট অফিস গলির একটি দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে চিৎকার-চেঁচামেচি হচ্ছিল। সেখানে থাকা রমজান তাঁকে জানান, তাঁরা টিভিতে খেলা নিয়ে বাজি ধরেছেন। নাসিম তাঁদের বাজি ধরতে এবং চিৎকার, চেঁচামেচি করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রমজানকে থাপ্পড় মারেন আসিফ। বিষয়টি নিয়ে আসিফের বাসায় গিয়ে রমজানেরা হুমকি-ধমকি দেন। আসিফকেও ফোন করে হুমকি দেন।
পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসিফ বাজার করতে বের হলে বাসার নিচে নাসিমকে ছুরিকাঘাত করেন। নাসিম দৌড়ে বাসার নিচে গিয়ে পড়ে যান। পরিবারের লোকজন তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নাসিমের বাবা গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানির ডেপুটি ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী আহাম্মদ সাইফুদ্দিন সেদিনই বাড্ডা থানায় আসিফ, রমজান, আব্দুর রশীদের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আসিফের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। তবে রমজান, আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি আসিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। আসিফ পলাতক থাকায় ২০২২ সালের ১৯ মে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।