হোম > সারা দেশ > ঢাকা

রাজধানীর কদমতলীতে বদ্ধ ঘরের খাটের নিচে গৃহবধূর লাশ, স্বামী পলাতক

ঢামেক প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

রাজধানীর কদমতলী ডিপটির গলির একটি বাসায় ইয়ানুর (২৫) নামের এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কদমতলী ডিপটির গলির পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার রুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. খালেকুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কদমতলীর ওই বাসার দ্বিতীয় তলার কক্ষের তালা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহ খাটের নিচে গলাকাটা অবস্থায় বিছানার চাদর দিয়ে মোড়ানো ছিল।

এসআই আরও জানান, তিন মাস আগে জুয়েল ও ইয়ানুর স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই বাসা ভাড়া নেন। তাঁদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। নিহত ইয়ানুরের ভাই ইমাম হোসেন বোনকে ফোনে না পেয়ে বাসায় খুঁজতে এসে রুম তালাবদ্ধ পান। এরপর তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে খাটের নিচে তাঁর বোনের মরদেহ দেখে থানায় খবর দেন।

পুলিশের ধারণা—স্বামী জুয়েল ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা গেটে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। আসামি ধরার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত ইয়ানুরের ছোট ভাই ইমাম হোসেন জানান, তাঁদের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার গুয়াবাড়িয়া গ্রামে। এক বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে ইয়ানুর বড় ছিলেন। বাবার নাম হানিফ হাওলাদার। গ্রামে বিয়ে হয়েছিল বোন ইয়ানুরের। সেই ঘরে সাত বছরের ছেলেসন্তান রেখে এক বছর আগে দশমিনা উপজেলার জিকরুল ওরফে জুয়েলের সঙ্গে পালিয়ে চলে আসেন। এর পর থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না।

ইমাম জানান, এর আগে জুয়েল আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন। গত ১৫-২০ দিন আগে ইয়ানুর মাকে ফোন দিয়ে বলেছিলেন, জুয়েল তাঁকে মারধর করেন। মা তাঁকে বাড়ি যেতে বললেও জুয়েল আসতে দেননি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আবারও মায়ের কাছে ফোন করেছিলেন তাঁর বোন। এরপর আজ সকাল থেকে ইয়ানুর ও জুয়েলের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নিহত ইয়ানুরের ভাই ইমাম হোসেন আরও জানান, তিনি নিজে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে থাকেন। সকালে গ্রাম থেকে তাঁর মা ফোন করে ইয়ানুরের বাসায় গিয়ে খোঁজ নিতে বলেছিলেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে কদমতলীর বাসায় এসে বাইরে থেকে রুম তালাবদ্ধ দেখতে পান তিনি।