ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলা ও ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার একজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন রিমান্ডে নেওয়ার এই নির্দেশ দেন।
যাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, তিনি হলেন জীবন ওরফে আদিল।
রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আদিলকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এর আগে ১৯ আগস্ট ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদিল এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ঘটনার পরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার ও রিমান্ড আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখা শেষে বাসায় ফিরছিলেন অধ্যাপক আসাদুর রহমান। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার সময় কয়েকজন ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে তাঁর পথ রোধ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, পথরোধের কারণ জানতে চাইলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করে। এ সময় তাঁর চোখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তবে জীবন ওরফে আদিলকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার আগে অপরিচিত একটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে আসাদুর রহমানের কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়। ওই নম্বরের সূত্র ধরে প্রযুক্তিগত সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চালায় পুলিশ।
১৮ আগস্ট অধ্যাপক আসাদুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলাটি করেন। তিনি ঢামেক হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান।
এই মামলায় এর আগে ফারহান শাহরিয়ার ওরফে ইভানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানা-পুলিশের সহযোগিতায় তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পল্টন থানা-পুলিশ। পরে গত শনিবার তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।