চক্রের হোতাসহ গ্রেপ্তার ৩
বিদেশে চাকরির লোভ দেখিয়ে কয়েক দফায় যশোরের যুবক নিলয় শিকদারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেয় দালাল চক্র। পরে তিনি অপহৃত হন। অপহরণকারীরা ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাইলে পরিবার সাড়ে ৪ লাখ টাকা দিলেও মুক্তি দেয়নি। দাবি করে আরও ৫ লাখ টাকা। অবশেষে অপহরণের ১০ দিন পর গতকাল শনিবার রাতে নিলয়কে ফরিদপুর থেকে উদ্ধার করে র্যাব-১০। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আজ রোববার বিকেলে বলেন, বিদেশে নেওয়ার কথা বলে দালাল চক্র নিলয়ের সবকিছু নিয়ে গেছে। তাঁকে অপহরণও করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, নিলয়ের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মহেষপাড়ায়। বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে কয়েক দফায় পাসপোর্টসহ ৫ লাখ টাকা নেয় একটি দালাল চক্র। তবে বিদেশে পাঠানো হয়নি। ৬ আগস্ট তাঁকে অপহরণ করে পরিবারের কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরিবার বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে মোট ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা পাঠায়। এরপরও নিলয়কে মুক্তি না দিয়ে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অপহরণের পর নিলয়কে একটি কক্ষে পায়ে শিকল দিয়ে গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। তাঁকে নির্যাতন করা হতো।
নিলয়ের শ্বশুর ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। শনিবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার চরকমলাপুরের একটি আবাসিক ভবন থেকে র্যাব শিকলবন্দী অবস্থায় নিলয়কে উদ্ধার করে। এ সময় ফেরদৌস উর রহমান ও মহুয়া আহমেদ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে একই থানার মুন্সীডাঙ্গীর নিজ বাড়ি থেকে এস এম মনোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে দুটি লোহার শিকল, চাবিসহ দুটি তালা, দুটি স্টিলের পাইপ, একটি চাকু, ছয়টি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।