নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর শাহবাগ জাদুঘরের সামনে পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচি শুরু করেন তাঁরা।
আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তাঁরা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি মেডিকেল টেস্টও সম্পন্ন করেছেন। এমনকি অনেকেই যোগদানের আশায় পূর্বের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তবে ফল প্রকাশের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়োগ বা পদায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের একজন মো. আরাফাত আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পরীক্ষার আগে যখন বুয়েটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তখন কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করে সময়মতো পরীক্ষা নেয়। পরীক্ষার দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ তৎপরতায় রেকর্ডসংখ্যক জালিয়াতি ধরা পড়ে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ডিভাইস ও জালিয়াতির বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে এনএসআই যাচাই-বাছাই করে প্রিলিমিনারি ফল প্রকাশের ক্লিয়ারেন্স দেয়। এবারই প্রথম ভাইভায় ফেল করার ব্যবস্থাও রাখা হয়, যাতে সন্দেহজনক প্রার্থীদের বাদ দেওয়া যায়।’
মো. আরাফাত আরও বলেন, ‘নির্দোষ প্রার্থীরা যেন বঞ্চিত না হয়, এ জন্য ১: ৫ অনুপাতে ভাইভার জন্য ডাকা হয় এবং ৬১ জেলার ডিসি, এডিসি ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ভাইভা অনুষ্ঠিত হয়। ভাইভা শেষ হওয়ার প্রায় ১৮ দিন পর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। ফলে বলা যায়, অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ছিল।’
আন্দোলনরত এই প্রার্থী আরও বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে নিয়োগের পরও তদন্ত করতে পারে, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কোথাও বিচ্ছিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট কেন্দ্র বা জেলায় তদন্ত করা যেতে পারে। কিন্তু কয়েকটি কেন্দ্রের কারণে সারা দেশের প্রার্থীদের হয়রানি কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না। তাই দ্রুত আমাদের যোগদান সম্পন্ন করার দাবি জানাই।’
মো. আরাফাত আরও বলেন, ‘আমরা হুট করে আন্দোলনে নামিনি। প্রথমে প্রতিটি জেলায় স্মারকলিপি দিয়েছি, শান্তিপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন করেছি। এরপরও দাবি আমলে না নেওয়ায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে নামতে বাধ্য হয়েছি। সরকার আমাদের প্রতি সদয় হলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কোনো কর্মসূচি আমরা দেব না।’
একইসঙ্গে আরাফাত বলেন, ‘সরকার যদি বাজেট বা জ্বালানি সংকটের কারণে নিয়োগ বিলম্ব করতে চায়, তাতেও আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমাদের কর্মস্থলে নিয়োগ দিয়ে প্রয়োজনে পরবর্তী বাজেট থেকে বেতন-ভাতা চালু করা হলেও আমরা তা মেনে নেব।’
আন্দোলনকারীরা আরও জানান, দীর্ঘ সময় পার হলেও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তাঁরা মানসিকভাবে চাপে আছেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ন্যায্য অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয়। ফল প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ও ডোপ টেস্ট রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দেন। তবে এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁরা।