হোম > সারা দেশ > ঢাকা

উগ্রবাদী সন্দেহে আটক: মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন ১১ জন, রিমান্ডে ১২

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

গতকাল তেজগাঁও কলেজের মসজিদে অভিযান চালিয়ে উগ্রবাদী সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ। ছবি: ভিডিও

রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ মসজিদ থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ২৩ জনের মধ্যে ১১ জনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বাকি ১২ জনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের সবাইকে আদালত থেকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

আটক ২৩ জনের মধ্যে ১১ জনকে আজ শনিবার সকালে মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিএমপির সন্ত্রাসবাদবিরোধী ইউনিট সিটিটিসির কার্যালয় থেকে শেরেবাংলা নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্য ১২ জনকে শেরেবাংলা নগর থানার একটি জিডির সূত্র ধরে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

গ্রেপ্তার দেখানো ১২ জনকে দুপুরে আদালতে নিয়ে যান সিটিটিসির পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ। তিনি তাদের প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান শুনানি শেষে তাদের তিন দিন করে রিমান্ড দেন। রাষ্ট্রপক্ষে আজিজুল হক দিদার রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাসুদ-উর-রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আরজি জানান।

আসামিরা হলেন—শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), রাম্মি মিয়া (২৯), কামিছুল ইসলাম (৩৬), সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাকিব আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সিটিটিসি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পেরেছিল, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করা, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংসতা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক তেজগাঁও কোকা-কোলা মোড় এলাকায় সমবেত হয়েছেন। পরে অভিযান চালিয়ে তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন, সিম কার্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সাইবার তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। ওই গ্রুপের মাধ্যমে তাঁরা উগ্রবাদী কথাবার্তা চালাতেন ও বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করতেন। তাঁরা নাশকতার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিলেন।

তবে গ্রেপ্তার হওয়া অনেকের অভিভাবক বলেছেন, তাঁদের সন্তান উগ্রবাদে জড়িত নয়।

মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ের সামনে কথা হয় আফিফ আহমেদের বাবা কবির হোসেনের সঙ্গে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, তিনি রাজধানীর কাজীপাড়ায় একটি ঘড়ির দোকানে কাজ করেন। তাঁর একমাত্র ছেলে আফিফ মাদ্রাসা থেকে হিফজ শেষ করেছে। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার কথা বলে সে ঘর থেকে বের হয়। এরপর তিনি এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে জানতে পারেন, তাঁর ছেলে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে।

কবির হোসেন বলেন, তাঁর ছেলে এসব কোনো কিছুর সঙ্গেই জড়িত নয়। এ সময় সেখানে থাকা আরও কয়েকজনের স্বজনও উগ্রবাদের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তবে সিটিটিসি বলেছে, গ্রেপ্তার শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা বিচারাধীন। এ ছাড়া মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলার বিচার চলছে।