পিলখানা হত্যাকাণ্ডে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পূর্ণ ক্ষতিপূরণসহ চাকরিতে পুনর্বহাল এবং মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দণ্ডিত ও নিরপরাধ কারাবন্দী বিডিআর সদস্যদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে বিডিআর কল্যাণ পরিষদ। এসব দাবি জানিয়ে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তাঁরা। এই সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে বৃহৎ আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানিয়ে সরকারকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নে সরকারের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এ সময় ‘ভাত দাও, না হয় মুখে বিষ দাও’ স্লোগান সংবলিত ওয়ান টাইম প্লেট তাঁদের হাতে দেখা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিডিআর কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. ফয়জুল আলম। ফয়জুল আলম বলেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে চাকরিচ্যুত এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের শিকার বিডিআর সদস্য ও তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় রয়েছেন। গত ২১ ও ২২ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী শান্তিপূর্ণ সমাবেশ কর্মসূচি থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সরকারকে গতকাল ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তাদের প্রত্যাশা ছিল, এ সময়ের মধ্যে সরকার মানবিক ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি বিবেচনা করে চাকরিতে পুনর্বহাল, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং নিরপরাধ জেলবন্দীদের মুক্তিসহ ন্যায্য দাবিগুলোর গ্রহণযোগ্য সমাধান দেবে। তবে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে দাবিগুলোর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ, পরিকল্পনা বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ফয়জুল আলম প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের যাতে রাস্তায় নামতে না হয়, আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা সরকারকে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিলাম। যদি এই ২০ অক্টোবরের মধ্যে আমাদের দাবি-দাওয়া পূরণ না হয়, তাহলে চাকরি হারানো বিডিআর সদস্যরা তাদের পরিবারসহ বৃহৎ আন্দোলনে নামবে। তখন আর আমাদের দোষ দিতে পারবেন না। কারণ আমরা বারবার আপনাদের সুযোগ দিয়ে যাচ্ছি। এবার কিন্তু আমরা মাঠ থেকে উঠব না।’