রাজধানীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকার জামতলা গলিতে দন্তচিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার স্বামী সোহেল রানাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার এই নির্দেশ দেন।
সোহেল রানাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ থানার এসআই হাবিবুর রহমানের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দুই দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ১ আগস্ট সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত সোহেল রানাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি জন্য আজ দিন ধার্য করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী শাহাবুদ্দিন শেখ রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বকর সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ৩০ জুলাই ঢাকার দক্ষিণখানের বাসা থেকে দন্তচিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পিনুর লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ বলেছিল, বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে হত্যা করে এবং ঘরের জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। তবে জানালার যে অংশে গ্রিল কাটা হয়, সেই জানালার ভেতরের অংশের বারান্দায় একটি জুতার ছাপ পান সিআইডির সদস্যরা। এরপর বাসায় পাওয়া এক জোড়া জুতার ছাপের সঙ্গে সেটির মিল পাওয়া যায়। ওই জুতা ছিল সোহেল রানার।
ওই ঘটনার পরদিন নিহতের বোন সারাহ সুলতানা পলি অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্তে নেমে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় নিহত সারাহ রোকসানা পিনুর স্বামী সোহেল রানাকে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন সকালে সোহেল রানা মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে অফিসে যান। বিকেলে কেউ নিতে না যাওয়ায় তাঁদের মেয়ে বাসায় ফিরে এসে দরজা আধখোলা অবস্থায় দেখতে পায়। ঘরে ঢুকে সে মাকে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। মুখের ওপর রাখা বালিশ সরিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে স্কুলে গিয়ে বাবাকে খবর দেয়। পরে মামলার তদন্তে সোহেল রানাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।