তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের সংস্কৃতির সঙ্গে সংখ্যালঘু সংস্কৃতির যে পার্থক্য রয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধান সেটি না বুঝলে যে খেসারত দিতে হয়, তা এখনো অনুভব করা যায়। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, অন্যের তৈরি করা রাজনৈতিক এই নৈরাজ্য ও সমস্ত জঞ্জাল দূর করার দায়িত্ব বহন করতে হয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমানকে। এখনো আমরা এটি বহন করছি।’
আজ সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: তারেক রহমান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান ধর্ম ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের পরিবর্তে নাগরিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রবর্তন করেছেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ছয় দফা ও উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ বাঙালি পরিচয়কে বড় করে তুলেছিল। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সীমানার মধ্যে বাঙালির পাশাপাশি অনেক অবাঙালি জনগোষ্ঠীও ছিল। বাংলাদেশের প্রথম পার্লামেন্টে শেখ মুজিবুর রহমান “তোরা সব বাঙালি হয়ে যা” বলেছিলেন। কিন্তু অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলো তাঁরা রাখতে চান না-এমন কথাও বলেননি।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো সরকারপ্রধান এ ধরনের অস্পষ্ট কথা বললে উসকানি তৈরি হয়। অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলো তাহলে কি দাবি করা হচ্ছে না-এমন প্রশ্নও তৈরি হয়। সেই সময় থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠের কথা বলার পাশাপাশি সেখানে সংখ্যালঘুরাও থাকে-এটি রাষ্ট্রপ্রধানকে বুঝতে হবে।’
শহীদ জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ যখন তৎকালীন রাজনৈতিক নেতারা পালাতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন মেজর জিয়া না পালিয়ে দেশেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। যুদ্ধ অনিবার্য হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধে যাওয়ার কথা বলেন-‘উই রিভল্ট’।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের নিজের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধে এ কাহিনি রয়েছে। ১৯৭২ সালে দৈনিক বাংলা ও ১৯৭৪ সালে দৈনিক বিচিত্রায় প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়। মন্ত্রীর দাবি, জিয়াউর রহমানের এই প্রবন্ধের ইতিহাসই বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: তারেক রহমান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ বইটির লেখক ও সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজের (সিবিএস) সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, এমপি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিবিএসের সভাপতি নজরুল হক নান্নু।