হোম > সারা দেশ > ঢাকা

নারী বন্ধুর বাসায় যুবক হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাজধানীর সবুজবাগে কাতারপ্রবাসী সিফাত উল্লাহ (২৭) হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৩। মামলার প্রধান আসামি আল আমিন হোসেন জয় (২৭) ও দ্বিতীয় আসামি সাজিদুল ইসলাম সাজিদকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ সোমবার দুপুরে র‍্যাব-৩ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এসব তথ্য জানান।

র‍্যাবের অধিনায়ক বলেন, গতকাল রোববার বিকেলে মাদারটেক বড়ইতলা এলাকায় এক তরুণীর ভাড়া বাসায় সিফাতকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার পর তদন্তে নেমে গতকাল দিবাগত রাত ২টার দিকে খিলগাঁও থানার হাজীবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে মামলার দ্বিতীয় আসামি সাজিদুল ইসলাম সাজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টার দিকে খিলগাঁও থানার শেখের জায়গা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি আল আমিন হোসেন জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানায়, ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কারণে প্রায় দেড় মাস আগে কাতার থেকে দেশে ফেরেন সিফাত। দেশে এসে তিনি জানতে পারেন, সাজিদের সঙ্গে ওই তরুণীর চার বছরের বেশি সময়ের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট ওই তরুণীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে সাজিদ জানতে পারেন, সিফাতের সঙ্গেও তাঁর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি জানার পর তরুণীর সঙ্গে সাজিদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে।

র‍্যাব জানায়, গতকাল বেলা ৩টার দিকে ওই তরুণীর ভাড়া বাসায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান সিফাত। এ সময় সিফাতের সেখানে আসার খবর পেয়ে কয়েকজন ওই বাসায় যান। তাদের মধ্যে আল আমিন হোসেন জয় নামের ওই যুবক তখন ভবনের নিচে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে জয়ের সহযোগীরা বাসায় ঢুকে সিফাতের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তিতে জড়ান। পরে সিফাত মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে পেছন থেকে ইট ছুড়ে মারা হয়।

র‍্যাবের দাবি, ইটের আঘাতে সিফাত পড়ে গেলে জয় তাঁর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরে জয় ও তাঁর সহযোগীরা ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে যান। তাঁর মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়।

জয়ের সঙ্গে বিরোধও ছিল সিফাতের

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আল আমিন হোসেন জয় ওই তরুণীর সঙ্গে মাদারটেক আব্দুল আজিজ উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাদে পরিচিত ছিলেন। র‍্যাবের দাবি, জয় এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এবং মাঝেমধ্যে বন্ধুদের নিয়ে ওই তরুণীর ভাড়া বাসায় গিয়ে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি জানতে পেরে সিফাত জয় ও তাঁর সহযোগীদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে জয়ের মধ্যে ক্ষোভ ছিল বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-৩ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।