বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রাজধানীর পল্টন থানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করেন কৌশিক দেবনাথ। তাঁর পক্ষে আইনজীবী মো. শরিফুল ইসলাম জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কৌশিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ৭ জুলাই আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিন চাইলে তাঁকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কৌশিক দেবনাথ মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
২০২৪ সালের ৮ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে সিআইডির এসআই নিপ্পন চন্দ্র চন্দ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে গত ১৮ মে আবেদ আলীসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতা আবেদের নেতৃত্বে পরীক্ষার আগেই নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নসহ উত্তর পৌঁছে দেওয়া হতো। প্রার্থীদের নির্দিষ্ট স্থানে এনে প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হতো। এরপর পরীক্ষার দিন তাদের কেন্দ্রে পাঠানো হতো। বিনিময়ে তাঁরা মোটা অঙ্কের টাকা আগাম নিয়ে নিতেন। চক্রটির বিস্তার ছিল দেশের বিভিন্ন জেলায়। এতে সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত ছিল।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, নেটওয়ার্কটি বিজি প্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি এনজিও পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রশ্নফাঁস কার্যক্রম পরিচালনায় সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিল এবং তারা পরীক্ষার গোপনীয়তা ভেঙে রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩ এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
উল্লেখ্য সরকারি কর্ম কমিশনের বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের মূল হোতা আবেদ আলী কারাগারে রয়েছেন।