বিএনপি কর্মী মো. বেল্লালকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদারকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ নির্দেশ দেন।
দীপংকর তালুকদারকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল ইসলাম এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ চলছিল। ওই দিন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে হোটেল ৭১-এর সামনে মিছিল করছিলেন। একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শান্তি সমাবেশের নামে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিল করছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পুলিশের সহযোগিতায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মিছিলে হামলা চালান। ওই হামলায় বেল্লালকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। তাঁকে মৃত ভেবে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে এক পাশে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে কয়েকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। হামলায় বেল্লাল শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।
সুস্থ হওয়ার পর ২০২৫ সালের ৮ মে শেখ হাসিনাসহ ১২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মো. বেল্লাল।
দীপংকর তালুকদারকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোবহানবাগ এলাকা থেকে দীপংকর তালুকদারকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন পল্টন থানায় দায়ের করা আরও একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এরপর তাঁকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।