নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি আবাসিক মাদ্রাসার ছাদে ‘বিদ্যুতায়িত হয়ে’ দগ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে আতিয়া আক্তার রিমা (১১) মারা গেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত আতিয়া আক্তার রিমার বাড়ি নাটোর সদর উপজেলায়। তার বাবার নাম আতিয়ার রহমান।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সুলতান মাহমুদ। তিনি জানান, আতিয়ার শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
সুলতান মাহমুদ আরও জানান, বর্তমানে ওই ঘটনায় দগ্ধ আরও চার শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে জিদনীর শরীরের ৮২ শতাংশ, লামিয়া আক্তার শাপলার ৫৫ শতাংশ, সুমাইয়া আক্তারের ১৩ শতাংশ এবং আসিয়া আক্তার আফরোজার ৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। জিদনী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এর আগে গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফতুল্লার কাশীপুর হাজীপাড়ার ‘মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসায়’ এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থী ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী। ঘটনার সময় তারা তিনতলা মাদ্রাসা ভবনের ছাদে খেলতে গিয়েছিল।
মাদ্রাসার ক্যাশিয়ার মো. ইউসুফ আলী জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ পর ছাদ থেকে একটি শব্দ শোনা যায়। সেখানে গিয়ে পাঁচ শিক্ষার্থীকে আগুনে ঝলসে যাওয়া অবস্থায় দেখা যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
মাদ্রাসা ভবনের ছাদের ওপর দিয়ে উচ্চক্ষমতার বিদ্যুতের তার রয়েছে জানিয়ে ইউসুফ আলী বলেন, সেখান থেকেই কোনোভাবে শিক্ষার্থীরা বিদ্যুতায়িত হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।
দগ্ধ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছিল, ঘটনার দিন বিকেলে তারা খেলতে ছাদে গিয়েছিল। খেলাধুলার সময় হঠাৎ তাদের শরীরে আগুন ধরে যায়। তবে কীভাবে আগুন লেগেছিল, তা তারা বলতে পারেনি।