ঢাকার সাভারের তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) বেশ কিছু লিফলেট উদ্ধার করেছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জেএমবির কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আজ মঙ্গলবার রাতে তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন বাড়িটিতে অভিযান শুরু করে সিটিটিসি। এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুরের ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, মূলত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট অভিযান চালিয়ে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুর এলাকার ওই বাড়িতে অভিযান শুরু করেন সিটিটিসি ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।
প্রাথমিকভাবে এটিকে জেএমবির কর্মকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে জানিয়ে ওসি বলেন, অভিযানে বাড়িটি থেকে জেএমবির বেশ কিছু লিফলেট, বোমা ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।
এদিকে, বাড়িটি ঘিরে রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অভিযান শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সাভারের তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় যে বাড়ি থেকে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, সেই বাড়ির মালিক আব্দুল জলিলের মেয়ে ইলমা জানান, ভাড়াটিয়াদের বিষয়ে তারা আগে থেকে কিছুই জানতেন না।
ইলমা বলেন, ‘আব্বাস আলী নামে একজনসহ আরও একজন বাসা ভাড়া নিতে এসেছিলেন। গত ২ আগস্ট আমরা তাদের বাসা ভাড়া দিই। তারা জানিয়েছিলেন, স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সেখানে থাকবেন এবং পাশের একটি স্কুলে তাদের ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করাবেন। পরিবার নিয়ে থাকবেন বলেই আমরা তাদের বাসা ভাড়া দিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা জানিয়েছিল, তারা ড্রাইভিংয়ের কাজ করেন। বাসার ভেতরে এত কিছু লুকিয়ে রাখবে, সেটা আমরা কোনোভাবেই জানতাম না। আমরা তাদের সাধারণ ভাড়াটিয়া হিসেবেই বাসা ভাড়া দিয়েছিলাম।’