নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে মামলার জব্দকৃত দলিলসমূহের জাবেদা নকল সরবরাহের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এ এই আবেদন করা হয়েছে।
গত কয়েকটি ধার্য তারিখে খালেদা জিয়ার অব্যাহতি শুনানি করছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। আজও শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আজ খালেদা জিয়ার পক্ষে মামলায় দাখিল করা দলিলপত্রের জাবেদা নকল সরবরাহের আবেদন করা হয়। আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী আদালতকে বলেন, এই মামলায় জব্দ করা দলিলপত্রের জাবেদা নকল না পেলে তাদের পক্ষে শুনানি করা সম্ভব নয়।
আদালত প্রশ্ন করেন, এত দিন আবেদন করেননি কেন? উত্তরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী বলেন, ‘আমরা আগেও আবেদন করেছিলাম। আদালত তখন বলেছিলেন দেওয়া হবে। কিন্তু এর পরে আর দলিলপত্রের জাবেদা নকল দেওয়া হয়নি।’
এই পর্যায়ে আদালত বলেন, নথি পর্যালোচনা করে আদেশ দেওয়া হবে। পরে বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন। আদালতে উপস্থিত বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এবং এই মামলার আসামি এম এ এইচ সেলিমের আইনজীবী জাকারিয়া হায়দার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের বিশেষ এজলাসে এই মামলার শুনানি চলাকালে খালেদা জিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার হাজিরা দেন। আসামি গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়নি। সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম ও বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম সময়ের আবেদন করেন। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাটি করেন।
২০১৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।