হোম > সারা দেশ > ঢাকা

জার্মান পর্যটকের সেই ল্যাপটপ উদ্ধার, পুরস্কৃত দুই পুলিশ কর্মকর্তা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

জার্মান পর্যটকের উদ্ধার করা ল্যাপটপ আজ তাঁর কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জার্মান পর্যটক ক্রিল ভান্ডার-ওয়েবারের হারিয়ে যাওয়া ম্যাকবুক উদ্ধার করে তাঁর কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান ও উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার করা ল্যাপটপটি পর্যটকের কাছে হস্তান্তর করেন আইজিপি। এ সময় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন ক্রিল ভান্ডার-ওয়েবার। ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য স্টেশনের অপেক্ষাকক্ষে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এ সময় ল্যাপটপ ও ক্যামেরা অপেক্ষাকক্ষে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান। ফিরে এসে সেগুলো খুঁজে না পেয়ে নাটোর থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান।

হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপে ক্রিলের গত ছয় মাসের কার্যক্রমের তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিল। তাঁর লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নাটোর সদর থানা-পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক দল ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।

এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর সদর থানার কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লথিং স্টোর থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আজ মঙ্গলবার সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ক্রিল ভান্ডার-ওয়েবার। বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় নিজের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিদেশি পর্যটকের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার এবং পুলিশের পেশাদারত্ব ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার স্বীকৃতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আর্থিক পুরস্কার দেন আইজিপি।

এ সময় আইজিপি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও দলগত সাফল্যের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি দ্রুত ও পেশাদার পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা, দেশি-বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আস্থা অর্জন, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং জনমুখী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেন।