ঢাকার আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা মেডিকেলে নজরুল ইসলাম (৩০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি কারখানাটির সামনের রাস্তায় কাঁচামাল বিক্রি করতেন।
আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকের এই দুর্ঘটনার পর তাঁকেসহ আরও ৩ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসাধীন রাত সাড়ে ১০টায় মারা যান নজরুল।
চিকিৎসাধীন বাকি ৩ জন হলেন—কাঁচামাল বিক্রেতা সুজন মিয়া (২৫), তাঁর বাবা মুখলেস মিয়া (৪৫)। অপরজন গ্যাস পরিবহনের গাড়িচালক দগ্ধ নুর ইসলাম (৩০)।
এর আগে ঘটনাস্থলেই কারখানার গেটের সামনে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত নজরুলের ছেলে সামিউল ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। বর্তমানে আশুলিয়া শিমুলতলায় থাকেন। ওই কারখানার সামনে পেঁয়াজ-রসূন বিক্রি করতেন তাঁর বাবা। দুর্ঘটনার পর তিনি খবর পেয়ে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে গিয়ে তাঁর বাবাকে দেখতে পান। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
এ দিকে, আহত মোখলেস জানান, তারা বাবা-ছেলে আশুলিয়ার জামগড়া প্রীতি গ্রুপের পোশাক কারখানার সামনের রাস্তায় কাঁচামাল বিক্রি করেন। সন্ধ্যায় কারখানার ভেতরে বিকট একটি বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে বিভিন্ন লোহার জিনিসপত্র, ইট-পাটকেল, গ্লাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেগুলোই মাথায় এসে পড়ে সুজনের। আর তাঁর হাতে ও পায়ে আঘাত পান। সেখান থেকে আশপাশের লোকজন তাঁদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধ নুর ইসলামের ভাগিনা মো. মাসুদ জানান, নুর ইসলামের বাড়ি বাগেরহাট জেলায়। তবে থাকতেন ভোলাতে। গ্যাস পরিবহনের গাড়ি চালান তিনি। বিস্ফোরণে তাঁর সারা শরীর পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান জানান, আশুলিয়ার ঘটনা মোট ৪ জনকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের মধ্যে নজরুল নামে একজন মারা গেছে। ২ জন ক্যাজুয়ালিটি ও ১ জন বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন।
এর আগে ঢাকার আশুলিয়ার কারখানার ভ্রাম্যমাণ সিলিন্ডার লরিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জয়নব বেগম (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। নিহত জয়নব বেগম গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকার মো. আলীর স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই বিকট শব্দে লরির সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয় এবং চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় লরির যন্ত্রাংশ বা সিলিন্ডারের অংশ ছিটকে গিয়ে পার্শ্ববর্তী দোকানে থাকা ওই নারীকে সজোরে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রীতি গ্রুপের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী সাত থেকে আটটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের চেষ্টায় রাত পৌনে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম বলেন, কারখানার গেটের সামনে থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কারখানার ভেতরে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের কোম্পানির পরিত্যক্ত একটি জায়গায়। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।