হোম > সারা দেশ > ঢাকা

বাংলামোটরের ঘটনা নিয়ে ব্যাখ্যা দিল ডিএমপি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের কারণে অসুস্থ শিশুকে নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি বলছে, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের জন্য নয়, বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের কারণে রাজধানীর বাংলামোটর ক্রসিংয়ে পূর্ব-পশ্চিমমুখী সিগন্যাল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

গত ৩০ আগস্ট বেলা ৩টা ১০ মিনিটের দিকে বাংলামোটর ক্রসিংয়ে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে অসুস্থ শিশুকে নিয়ে যাওয়ার পথ চেয়ে এক ব্যক্তিকে ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় ওই ব্যক্তি শিশুর অসুস্থতার কথা জানিয়ে দ্রুত যাওয়ার জন্য সিগন্যাল খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠে, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের জন্য অসুস্থ শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া গাড়ি আটকে রাখা হয়েছিল।

এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার ব্যাখ্যা দিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপির মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেনের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলামোটর ক্রসিংয়ে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য ও আংশিক তথ্যসহ প্রচার করা হচ্ছে।

ডিএমপি জানায়, গত ৩০ আগস্ট বেলা ৩টা ১০ মিনিটের দিকে রমনা ট্রাফিক জোনের আওতাধীন বাংলামোটর ক্রসিংয়ে ঘটনাটি ঘটে। ওই এলাকায় এনসিপির দলীয় প্রধান কার্যালয় রূপায়ন টাওয়ারে অবস্থিত। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে গুম ও হত্যার প্রতিবাদে এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ৭০০ থেকে ৮০০ কর্মী-সমর্থক দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের কারণে একপর্যায়ে পূর্ব-পশ্চিমমুখী সিগন্যাল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। তখন শুধু উত্তর-দক্ষিণমুখী সিগন্যাল চালু ছিল। পূর্ব-পশ্চিমমুখী সিগন্যাল চালু করলে যানবাহন সামনে এগোতে না পারায় পুরো ক্রসিংয়ে যানজট ও ডেডলক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

ডিএমপি আরও জানায়, প্রচারিত ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের কাছে শিশুর অসুস্থতার কথা জানিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে যাওয়ার জন্য সিগন্যাল খুলে দেওয়ার অনুরোধ করতে দেখা যায়। পুলিশ সদস্য তাঁকে জানান, রাস্তায় বিপুল জনসমাগমের কারণে ওই দিকের সিগন্যাল বন্ধ রাখা হয়েছে। জনসমাগম সরে গেলে সিগন্যাল চালু করা হবে।

তবে ওই ব্যক্তি বারবার অনুরোধ করতে থাকলে তাঁকে উত্তর অথবা দক্ষিণমুখী সড়ক ব্যবহার করে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি এতে রাজি হননি বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বাংলামোটর ক্রসিংয়ের কাছাকাছি চলে আসে। এ সময় রাস্তার সার্বিক ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

ডিএমপি স্পষ্ট করে বলেছে, ওই সময় নেওয়া ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর গমনাগমনের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

ডিএমপির দাবি, প্রচারিত ভিডিও ও সংবাদে পুলিশ বাহিনীর দায়িত্বশীলতা নিয়ে যে সংশয় বা ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে, তা অসত্য, আংশিক তথ্য ও ভুল-বোঝাবুঝির ফল।