হোম > সারা দেশ > ঢাকা

সাভারে মাদ্রাসায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, পাঁচ আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

প্রতীকী ছবি

ঢাকার সাভারের একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসার পাঁচ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। নির্যাতনের কথা জানার পরও ব্যবস্থা না নিয়ে শিশুটিকে মারধর ও ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে আরও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

শিশুটির বাবা গত ২৩ আগস্ট ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মাদ্রাসার পাঁচ শিক্ষার্থী ও পাঁচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় শিশুটির মৌখিক বর্ণনার ভিত্তিতে নির্যাতনের বিস্তারিত ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২১ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এক শিক্ষার্থী শিশুটিকে টয়লেটে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি জেনে আরও চার শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। গত ৪ জুলাই রাতে এক সহকারী শিক্ষকও শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর ওই শিক্ষক নিয়মিত শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করতেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

শিশুটি বিষয়টি অন্য শিক্ষকদের জানালে তাঁরা ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে মারধর ও কাউকে না বলার জন্য ভয় দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বাবা-মাকে জানালে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

শিশুটির বাবা জানান, গত ১৫ আগস্ট তিনি মাদ্রাসার পরিচালকের কাছে ঘটনাটি জানান। পরিচালক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে থানায় মামলা না করার অনুরোধ করেন। পরদিন তিনি জানতে পারেন, অভিযুক্তদের জুতাপেটা করে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ক্রমাগত ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৮ আগস্ট তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে ওই দিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়া হয়।

শিশুটির বাবা বলেন, ‘ছয় মাস ধরে আমার ছেলেকে ছাত্র-শিক্ষক মিলে নির্যাতন করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এদিকে মামলার পর গত শুক্র ও শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে তিনজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, বয়স ১২, ১৩ ও ১৫ বছর। অন্য দুজন মাদ্রাসার শিক্ষক।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান জানান, সাভার মডেল থানা, আশুলিয়া থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল বরগুনা, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সত্যতা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে দেশের আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি ।