রাজধানীর বাড্ডায় দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় বাসায় ঢুকে এক যুবককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে ময়নারবাগ বউবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত যুবক মোহাম্মদ রানাকে (৩৫) গতকাল দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তবে এ ঘটনায় আজ রোববার সন্ধ্যা পর্যন্তথানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহত রানা নোয়াখালীর মাইজদী শহরের মৃত আব্দুর রবের ছেলে। তিনি রাজধানীর নতুন বাজারের কাজীবাড়ি এলাকায় থাকেন এবং পেশায় গাড়িচালক।
রানার স্বজন রাহিদুলের অভিযোগ, বাড্ডার একটি বাসায় জয় নামের এক ব্যক্তির দাওয়াতে যান রানা। খাওয়ার পর সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। রাত ১০টার দিকে বাসার ভেতরের একটি দরজায় ধাক্কা দেওয়ার শব্দ হলে কক্ষের ভেতর থেকে ‘কে’ জিজ্ঞাসা করা হয়। বাইরে থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে জয় দরজা খুলে কাউকে দেখতে পাননি। পরে তিনি বাসার মূল দরজার কাছে গেলে এর মধ্যেই তামিম ও আরও দুজন রুমে ঢুকে রানাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে তাঁর ডান হাঁটুর ওপর গুলি করেন। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তাঁরা।
গুলির কারণ সম্পর্কে রানা বলেন, তাঁর বড় ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানে তামিম নিয়মিত চাঁদা চাইতেন। তামিমকে চাঁদা দিতে তিনি নিষেধ করেছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তামিম তাঁকে গুলি করেছেন বলে ধারণা তাঁর। তামিমের বিরুদ্ধে বাড্ডায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
গুলির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে গুলশান বিভাগের বাড্ডা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। এরপরও আমাদের টিম জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ করছে।’
চাঁদা না দেওয়ায় গুলি করা হয়েছে—রানার এমন অভিযোগের বিষয়ে এসি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চাঁদার ঘটনা সত্য কি না, এখনই বলতে পারব না। কারণ ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলতে আমি ঢাকা মেডিকেলে গিয়েছিলাম। তবে আমরা যাওয়ার আগেই তিনি হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন। তাঁকে আমরা পাচ্ছি না। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রানা নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয় ঢাকা মেডিকেলে আসেন। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যায়।